মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০১৫

রাসুল সাঃ রুকু ও কিয়ামে কী পড়তেন?

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০১৫
ইসলামী সঙ্গীত ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
সালাতে মনোযোগ হারিয়ে ফেলার একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে, নির্দিষ্ট কিছু দোয়া সব সালাতেই পড়া। এতে করে মুখস্ত দোয়াগুলো অটোম্যাটিক পড়া হয়ে যায়, কিন্তু মন সালাতে থাকে না। অথচ রাসুল সাঃ রুকু, কিয়াম, সিজদা ও বৈঠকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ও একই সময়ে একাধিক দোয়াও পড়তেন।
আগের একটি পোস্টে আমরা দেখেছিলা রাসুল সাঃ তাকবীরে তাহরীমার পরে কী কী দোয়া পড়তেন। এখানে আমরা দেখবো তিনি রুকু ও রুকু থেকে দাঁড়িয়ে কিয়ামে কোন কোন দোয়া পড়তেন।
১। রুকুতে গিয়েঃ 
ক) আমরা সাধারণত নিচের দোয়াটি পড়ি-
অর্থঃ আমার মহান প্রতিপালক সকল ত্রুটি ও দুর্বলতা থেকে মুক্ত
খ) উপরের দোয়ার সাথে কখনো তিনি এটি যোগ করতেন-
 
অর্থঃ হে আল্লাহ, আমাদের প্রতিপালক, তুমি সকল ত্রুটি ও দুর্বলতা থেকে পবিত্র। হে আল্লাহ, আমরা তোমারই প্রশংসা করছি, আমাকে ক্ষমা করে দাও
গ) রাতের তাহাজ্জুদ ও অন্যান্য নফল সালাতে তিনি নিচের দোয়া দুটি পড়তেন- 
অর্থঃ সকল দুর্বলতা থেকে পবিত্র হে আমাদের রব, তুমি সকল ফেরেশতা ও জিবরাঈলের (আঃ) ও প্রতিপালক। 

অর্থঃ হে আল্লাহ, তোমার জন্যেই আমি নত হয়েছি, তোমার উপরই ঈমান এনেছি, তোমার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি, তোমারই উপর ভরসা করছি। আমার কান, চোখ, মগজ, হাড় ও শিরা-উপশিরা- সবই তোমার বিনয়াবনত হয়েছে। বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্যেই আমার পা উপরে উঠে ও নিচে নামে। 

২। রুকু থেকে দাঁড়ানোর সময়ে ও দাঁড়িয়ে তথা কিয়ামের সময়ের দোয়াঃ
ক) দাঁড়ানোর সময়ঃ
আমরা যেটি সাধারণত পড়ি সেটিই ঠিক আছে-
অর্থঃ আল্লাহ শুনেছেন তাঁর বান্দা কার প্রশংসা করেছে। 
খ) রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আমরা সাধারণত নিচের দোয়াটি পড়ি। এটিও ঠিক আছে-
অর্থঃ হে আমাদের প্রভু, সমস্ত প্রসংসা তোমারই জন্যে। 
গ) তবে কখনো এটি পড়তেন- 
অর্থঃ হে আমাদের প্রভু, সমস্ত প্রসংসা তোমারই জন্যে। 
ঘ) কখনো আবার এটি পড়তেন -
অর্থঃ হে আল্লাহ!  সমস্ত প্রসংসা তোমারই জন্যে। 
ঙ) অনেক সময় পড়তেন এটি-
অর্থঃ আল্লাহ ঐ ব্যক্তির প্রশংসা শোনেন যে তাঁর প্রশংসা করে। হে আমাদের রব! আসমান ও পৃথিবী পূর্ণ করা প্রশংসা তোমার। এছাড়াও তুমি যা চাও তা পূর্ণ করা প্রশংসাও তোমার। তোমার বান্দা যতোগুণ প্রশংসা ও মর্যাদার কথা বলে তা পাওয়ার তা পাওয়ার যোগ্য ও অধিকারী তুমি। আমরা সবাই তোমারই দাসানুদাস। হে আল্লাহ! তুমি যা দিতে চাও তা ঠেকাবার কেউ নেই, তুমি যা মানা করতে চাও তা দেবারও কেউ নেই। কারো ক্ষমতা ও বিত্ত তোমার দরবারে কোন উপকারে আসে না। 
চ) সহীহ সূত্রে বর্ণিত, তিনি (সাঃ) কিয়ামে এই দোয়াও পড়তেন-
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি পানি, বরফ আর শীতল জিনিস দ্বারা আমকে ভুলত্রুটি থেকে ধুয়ে মুছে পবিত্র করে দাও। এবং আমাকে আমার গুনাহখাতে থেকে ঠিক সেভাবে ঝকঝকে ত্বকত্বকে পরিচ্ছন্ন করে দাও যেভাবে ময়লা ও দাগ থেকে সাদা কাপড় ধবধবে সাদা হয়ে ওঠে। আর, আমার ও আমার ভুলত্রুটির মাঝে পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তের মতো দূরত্ব সৃষ্টি করে দাও।

তথ্য ও হাদিস সূত্রঃ আল্লাহর রাসুল সাঃ কিভাবে নামাজ পড়তেন- আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন