মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০১৫

জামায়াতে নামাজ পড়ার গুরুত্ব ও তাকিদ

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০১৫
বিঃদ্রঃ শিরোনামে 'নামাজ' শব্দটা উল্লেখ করলেও, আমাদের উচিত আরবি মূল শব্দ 'সালাত' শব্দটি ব্যবহার করা।
আমরা অনেক সময় অলসতার কারণে অথবা পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে জামায়াতে সালাত আদায় করি না। আসলে, একে দুর্বলতা মনে না করে উপায় নেই। জামায়াতে সালাত আদায় না করলে সালতের অন্যতম মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যায়। আসুন কুর'আন হাদিসের আলোকে একটু দেখা যাক-
জামায়াতের ব্যাপারে কুর'আনের তাকিদঃ 
আল্লাহ বলেন-
অর্থঃ তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত আদায় কর এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু কর। (সুরা বাকারা ২ঃ৪৩)
১। এ আয়াত থেকে মুফাসসিরিনে কিরামগণের ব্যাখ্যা হচ্ছে সালাত আদায় করতে হবে জামায়াতের সাথে।
২। এছাড়াও দেখুন, যেহেতু সালাত কায়েম করাই ফরজ সেক্ষেত্রে একা একা বাসায় সালাত করার মাধ্যমে সেই ফরজইবা কতটুকু পালিত হয়?
৩। আল্লাহ জামায়াতের সাথে সালাত আদায়কে কতটুকু গুরুত্ব দিয়েছেন সেটা বুঝতে হলে পড়ুন সুরা নিসার ১০২ নম্বর আয়াত। এখানে তাকিদ দেওয়া হয়েছে জিহাদের ময়দানে যুদ্ধ চলাকালীন সময়েও একা একা নয়, সালাত আদায় করতে হবে জামায়াতের সাথে। অবশ্য জিহাদের সময় রাকাতের ব্যাপারে শিথিলতা আছে।
জামায়াতে সালাতের ব্যাপারে রাসুল সা. এর বক্তব্যঃ
[রাসুল সাঃ এর হুবহু বক্তব্য]
১। মুনাফিকদের নিকট ফজর এবং এশার চেয়ে বেশি কঠিন কোন সালাত নেই। তারা যদি জানতো এ দু'নামাজের সওয়াব কতখানি বেশি তাহলে তারা সব সময় এ দুই সালাতের জন্যে হাজির হতো, এমনকি হাঁটুর উপর ভর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে আসতো।
২। আমার মন বলছে, কোন মুয়াজ্জিনকে হুকুম দেই একামাত দিক এবং আমি কাউকে হুকুম দেই আমার স্থানে ইমামতি করুক এবং আমি স্বয়ং আগুনের কুণ্ডলী নিয়ে তাদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেই এবং তাদেরকে জ্বালিয়ে মারি যারা আযান শোনার পরেও ঘর থেকে বের হয় না। (বুখারি, মুসলিম)
[আমার মনে হয় না, কেউ এই হাদিসকে ভুল বুঝে বর্তমানেও কারো ঘরে আগুন লাগাবে। রাসুল সা. এখানে জামায়াতের গুরুত্ব বুঝিয়েছেন। আরো মনে রাখতে হবে, সেই সময় মদীনায় ইসলামী সরকার কায়েম ছিল এবং অধিবাসীরা ছিল মুসলিম। কথাটি বললাম তথাকথিত মুক্তমনাদেরকে উদ্দেশ্য করে যারা ইসলামের মধ্যে ভুল (!) খুঁজে পায়]
৩। হজরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত-
যে ব্যক্তি আযান শুনার পর জামায়াতে সালাত আদায় করতে আসে না এবং তার না আসার কোন ওজরও নেই তবে তার সালাত কবুল হবে না, যা সে একাকী পড়ে। জনৈক সাহাবী (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন- ওজর কী? রাসুল সাঃ উত্তর দিলেন -'ভয় বা অসুস্থতা'।
৪।  হজরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত-
যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন প্রত্যেক সালাত জামায়াতের সাথে এমনভাবে আদায় করবে যে তাকবীরে উলাও ছুটে যাবে না, তাহলে তার জন্যে দুটি জিনিস থেকে অব্যাহতির ফায়সালা করা হয় । এক- জাহান্নামের আগুন থেকে অব্যাহতি ও দুই- মুনাফেকি থেকে অব্যাহতি ও হেফাজত।
৫। উবাই ইবন কা'ব রাঃ থেকে বর্ণিত-
যদি মানুষেরা জামায়াতের সওয়াব জানতে পারতো, তাহলে তারা যে অবস্থায় থাক না কেন, দৌড়ে এসে জামায়াতে শামিল হতো। জামায়াতের প্রথপম কাতার এমন ,যেন ফেরেশতাদের কাতার। একা নামাজ পড়ার চেয়ে দু'জনে নামাজ পড়া ভালো। তারপর মানুষ যত বেশি হবে, ততোই সে জামাত আল্লাহর নিকট পছন্দনীয় ও প্রিয় হবে। (আবু দাউদ)
৬। যারা অন্ধকার রাতে জামায়াতের জন্যে মসজিদে যায়, তাদেরকে এ সুসংবাদ দাও যে, কিয়ামাতের দিন তারা পরিপূর্ণ আলো লাভ করবে।
৭। উসমান রাঃ হতে বর্ণিত-
যে ব্যক্তি এশার সালাত জামায়াতে আদায় করবে, সে অর্ধেক রাত ইবাদাতের সওয়াব পাবে এবং যে ফজরের সালাত জামায়াতে আদায় করবে, সে পুরো রাতের ইবাদাতের সওয়াব পাবে।
৮। একাকী সালাত পড়ার চেয়ে জামায়তে পড়লে ২৭ গুণ বেশি সওয়াব। (বুখারি, মুসলিম)

রাসুল সাঃ এর যুগে জামায়াতের প্রতি তাকিদের উদাহরণঃ
১। রাসুল সাঃ নিজে অসুস্থ অবস্থায় দুই জন সাহাবীর (রাঃ) কাঁধে ভর দিয়ে জামায়াতে শামিল হয়েছেন।
২। আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রাঃ ছিলেন অন্ধ। তাঁর বাড়িও ছিল দূরে। রাতের অন্ধকারে মসজিদে আসতে কষ্ট হবে বলে তিনি রাসুল সাঃ এর কাছ থেকে জামায়াতে শামিল না হবার অনুমতি চান। তাঁকে অনুমতি দেওয়া হয়। একটু পরই রাসুল সাঃ তাঁকে ডেকে জিজ্ঞেস করেন, 'তুমি কি আযান শুনতে পাও?" তিনি বললেন, 'হ্যাঁ'। এবার রাসুল সাঃ বলেন, "তাহলে, আযানের জবাব দিতে দিতে মসজিদে এসে জামায়তে সালাত আদায় করবে।" 
[শেষ উক্তিটির বাচনভঙ্গি একটু ভিন্ন হতে পারে, তবে মূল বক্তব্য এটাই]

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন