শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০১৫

সালাতে তাকবীরে তাহরিমার পরে পঠিত দুয়াগুলো

শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০১৫
সালাতে তাকবীরে তাহরীমার পরে পড়ার জন্যে রয়েছে অনেকগুলো দুয়া। সব সালাতেই একটি নির্দিষ্ট দুয়া পড়তে থাকলে সালাতে মনঃসংযোগ কম হয়। একই দুয়া বারবার পড়াও আসলে সালাতে মনোযোগ না থাকার আরেকটি কারণ। তাই, আপাতত তাকবীরে তাহরীমার পরে যে দুয়াগুলো পড়া যায় সেগুলো নিচে অর্থসহ উল্লেখ করা হল।
উলেখ্য, রাসুল সাঃ তাকবীরে তাহরীমা বলেই সালাত শুরু করতেন। [সূত্র-১, নিচে দেখুন]
১।
 অর্থঃ হে আল্লাহ, আমার ও আমার সমস্ত ভুলত্রুটির মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করে দাও, যেমন  তুমি দূরত্ব সৃষ্টি করে দিয়েছো পূর্ব আর পশ্চিমের মাঝে। হে আল্লাহ, তুমি পানি, বরফ আর শীতল জিনিস দ্বারা আমাকে আমার ভুলত্রুটি থেকে ধুয়ে মুছে পবিত্র করে দাও। হে আল্লাহ, আমাকে আমার গুনাহ খাতা থেকে ঠিক সেরকম ঝকঝকে ত্বকত্বকে পরিচ্ছন্ন করে দাও যেমন ময়লা ও দাগ থেকে সাদা কাপড় ধবধবে সাদা হয়ে ওঠে।
২। কখনো রাসুল সাঃ তাকবীরে তাওহরীমার পরে নিচের দুয়াটি পড়তেন। উল্লেখ্য, এটার সাথেই আমরা বেশি পরিচিত। তবে, একে অনেকেই তাকবীরে তাহরীমার আগে পড়েন, কেউ আবার পড়েন আংশিক। কিন্তু রাসুল সাঃ পড়তেন পরে।
আরো উল্লেখ্য, এই দুয়ার দুটি অংশই কুর'আনের দুটি আয়াত। প্রথম অংশ সুরা আন'আমের ৭৯ আয়াত ও ২য় অংশ সুরা আন'আমের ১৬২-১৬৩ নং আয়াতদ্বয়।
 অর্থঃ আমি একনিষ্টভাবে মহাবিশ্ব ও এই পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তার দিকে মুখ ফিরালাম। তাঁর সাথে যারা শিরক করে, আমি তাদের অন্তর্ভূক্ত নই। অবশ্যি আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু মহান আল্লাহর জন্যে, যিনি সমগ্র বিশ্ব-জগতের প্রতিপালক।  কেউই তাঁর অংশীদার নয়। এই কথাগুলো মেনে নেওয়ার নির্দেশ আমাকে দেওয়া হয়েছে এবং আমিই সবার আগে মেনে নিয়েছি।
 ৩।
 অর্থঃ হে আল্লাহ, তুমিই মহাবিশ্বের একমাত্র সম্রাট। তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তুমি আমার প্রভু আর আমি তোমার দাস। আমি নিজের উপর জুলুম করেছি আর নিজের অপরাধ স্বীকার করছি। অতএব, তুমি আমার সমস্ত অপরাধ ক্ষমা করে দাও। তুমি ছাড়াতো অপরাধ ক্ষমা করার কেউ নেই। আমাকে সর্বোত্তম নৈতিক চরিত্র অর্জনের পথ দেখাও। তুমি ছাড়াতো এ পথ দেখাবার আর কেউ নেই। আমার চরিত্র ও আচরণে যা কিছু দোষত্রুটি আছে, তুমি তা দূর করে দাও। তুমি ছাড়া তো তা দূর করার আর কেউ নেই। হে প্রভু, তোমার দরবারে আমি হাজির হয়েছি। বড় মেহেরবান তুমি। সমস্ত কল্যাণ তোমার হাতে। অকল্যাণের দায়দায়িত্ব তোমার নেই। আমি তোমারপই ইচ্ছেমতো চলবো, তোমারই কাছে ফিরে যাবো। বড়ই প্রাচুর্যময় তুমি, বড়ই আলীশান তুমি প্রভু! তোমার কছে আমি ক্ষমা চাই। আর তোমারই দিকে মুখ ফিরালাম" 
সাধারণত, রাতের নামাযে (তাহাজ্জুদে) রাসুল সাঃ এই দুয়া পড়তেন। আবার কখনো এই দুয়া পড়তেন।
৪। 
অর্থঃ হে আল্লাহ, তুমি জিবরাইল ও ইসরাফিল আঃ এর প্রভু এবং আসমান ও পৃথিবীর স্রষ্টা। তোমার বান্দাদের মধ্যকার বিরোধের মীমাংসা তুমিই দিয়ে থাকো। তোমার নির্দেশে আমি মহাসত্য নিয়ে যে বিরোধের সম্মুখীন হয়েছি, সে ব্যাপারে তুমি আমাকে সঠিক পথের নির্দেশনা দান করো। তুমি তো যাকে ইচ্ছা করো, সঠিক পথের নির্দেশনা দিয়ে থাকো।
৫।
 অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার জন্যেই সমস্ত প্রশংসা। মহাবিশ্ব, এই পৃথিবী ও এগুলোর মাঝে যা কিছু আছে, সেগুলোর তুমিই আলোকবর্তিকা। 
এখানে যে পাঁচটি দুয়া উল্লেখ করা হলো, তা ছাড়াও আরো কয়েকটি দুয়া আছে, যা রাসুল সাঃ তাকবীরে তাহরীমার পরে পড়তেন। এগুলো পবরবর্তীতে যুক্ত করা হবে, ইনশা-আল্লাহ। 
৬। নিম্নোক্ত সানা পড়ে তিনি সালাত শুরু করতেন। 

সানার অর্থঃ হে আল্লাহ! সমস্ত দোষত্রুটি, অক্ষমতা ও দুর্বলতা থেকে তুমি পবিত্র। আমি তোমারই প্রশংসা করি। মোবারক তোমার নাম। সর্বোচ্চ তোমার শান। আর তুমি ছাড়া নেই কোন ইলাহ। 
আমরা ভবিষ্যতে সালাতের অন্যান্য দুয়াগুলোও অর্থসহ উল্লেখ করবো, ইনশা-আল্লাহ। 
সূত্রঃ
[১] আল্লাহর রাসুল সাঃ কিভাবে নামাজ পড়তেন- আল্লামা হাফিয ইবনুল কায়্যিম। বইটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন