বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০১৫

কুর'আনে মুহাম্মাদ সা. এর নাম

বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০১৫
পবিত্র কুর'আনে মুহাম্মাদ সা. এর নাম এসেছে পাঁচবার। চার বার এসেছে মুহাম্মাদ নামটি। আর একবার এসেছে তাঁর আরেকটি নাম আহমাদ।
নিচে যে যে আয়াতে তাঁর নাম এসেছে তা উল্লেখ করা হল।
১. সুরা আলে ইমরান (৩ঃ১৪৪)
 মুহাম্মাদ একজন রসূল বৈ তো আর কিছুই নয়। তার আগে আরো অনেক রসূলও চলে গেছে। যদি সে মারা যায় বা নিহত হয়, তাহলে তোমরা কি পেছনের দিকে ফিরে যাবে? মনে রেখো, যে পেছনের দিকে ফিরে যাবে সে আল্লাহর কোন ক্ষতি করবে না, তবে যারা আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হয়ে থাকবে তাদেরকে তিনি পুরস্কৃত করবেন।

২. সুরা আহযাব (৩৩ঃ৪০)
 (হে লোকেরা!) মুহাম্মাদ তোমাদের পুরুষদের মধ্য থেকে কারোর পিতা নয় কিন্তু সে আল্লাহর রসূল এবং শেষ নবী আর আল্লাহ‌ সব জিনিসের জ্ঞান রাখেন।
৩. (সুরা মুহাম্মাদঃ২)

 আর যারা ঈমান এনেছে নেক কাজ করেছে এবং মুহাম্মদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তা মেনে নিয়েছে- বস্তুত তা তো তাদের রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত অকাট্য সত্য কথা- আল্লাহ‌ তাদের খারাপ কাজগুলো তাদের থেকে দূর করে দিয়েছেন এবং তাদের অবস্থা শুধরে দিয়েছেন।
৪. সুরা ফাতহ (৪৮ঃ২৯)



 মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল। আর যারা তাঁর সাথে আছে তারা কাফেরদের বিরুদ্ধে আপোষহীন এবং নিজেরা পরস্পর দয়া পরবশ। তোমরা যখনই দেখবে তখন তাদেরকে রুকূ' ও সিজদা এবং আল্লাহর করুণা ও সন্তুষ্টি কামনায় তৎপর পাবে। তাদের চেহারায় সিজদার চিহ্ন বর্তমান যা দিয়ে তাদেরকে আলাদা চিনে নেয়া যায়। তাদের এ পরিচয় তাওরাতে দেয়া হয়েছে। আর ইনযীলে তাদের উপমা পেশ করা হয়েছে এই বলে যে, একটি শস্যক্ষেত যা প্রথমে অঙ্কুরোদগম ঘটালো। পরে তাকে শক্তি যোগালো তারপর তা শক্ত ও মজবুত হয়ে স্বীয় কাণ্ডে ভর করে দাঁড়ালো। যা কৃষককে খুশী করে কিন্তু কাফের তার পরিপুষ্টি লাভ দেখে মনোকষ্ট পায়। এ শ্রেণীর লোক যারা ঈমান আনয়ন করছে এবং সৎকাজ করেছে আল্লাহ‌ তাদেরকে ক্ষমা ও বড় পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

৫. সুরা সফ (৬১ঃ৬)

আর স্মরণ করো  ঈসা ইবনে মারয়ামের সেই কথা যা তিনি বলেছিলেনঃ হে বনী ইসরাঈল, আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রসূল। আমি সেই তাওরাতের সত্যতা প্রতিপাদনকারী যা আমার পূর্বে এসেছে এবং একজন রসূলের সুসংবাদদাতা যিনি আমার পরে আসবেন, যার নাম আহমাদ। কিন্তু যখন তিনি তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ পেশ করলেন তখন তারা বললঃ এটা তো স্পষ্ট প্রতারণা।
উল্লেখ্য, কুর'আনে ঈসা আ. এর নাম এসেছে ২৫ বার। এ থেকে কোন কোন খ্রিষ্টান মিশনারি মুসলানদের বিভ্রান্ত করার জন্য বলে, দেখো, আল্লাহ ঈসা আ. কে বেশি ভালোবাসেন!
প্রথম কথা হলো, নাম কত বার থাকল সেটা ভালোবাসার প্রমাণ নয়। মুসা আ. এর নাম কুর'আনে এসেছে ১৩৬ বার। তারা কি তাহলে এই যুক্তি অনুসারে মুসা আ. কে ঈসা আ. থেকেও শ্রেষ্ট মেনে নিবে?
আসলে রাসুলদের (সা.) সম্পর্কে এই রকম তুলনার কোন অবকাশ নেই। আমরা তাদের মাঝে কোন পার্থক্য করি না।

আর রাসুল সা. এর নাম কম থাকার কারণ হচ্ছে, তাঁকে উদ্দেশ্য করেই কুর'আন নাজিল হচ্ছে। আমরা যখন কারো সাথে কথা বলি, তখন বার বার তাকে নাম ধরে ডাকি না। অন্য ভাবে দেখলে মুহাম্মাদ সা. কে কুর'আনে ইয়া নাবী, ইয়া রাসুল ইত্যাদি বলে অসংখ্য বার সম্বোধন করা হয়েছে।

সূত্রঃ [১] তানজিল ডট নেট। উল্লেখ্য, আপনি এ সাইটে সার্চ করে কুর'আনের যে কোন শব্দ কত বার আছে তা জানতে পারেন, আলহামদুলিল্লাহ। অবশ্য, আমি এই রেফারেন্সগুলো বের করার পরে এই সুবিধা সম্পর্কে জেনেছি।
[২] কুর'আনে কোন নবী (আ.) ও অন্যান্য মানুষের নাম কত বার এসেছে দেখতে এখানে চোখ বুলান।
[৩] ব্যখ্যা সহ কুর'আন পড়ুন এখানে।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন