রবিবার, ১১ মে, ২০১৪

মারেফাতের দোহাই দিয়ে মিউজিকেল গান শোনা

রবিবার, ১১ মে, ২০১৪
আজকে টিউশনির বাসা থেকে বের হবার সময় খেয়াল করলাম গেটের চাচা কি যেন গান শুনছেন। শুনে মনে হল মরমী জাতীয় গান। সাথে চলছে বাজনা। চাচার মুখে দাঁড়ি আছে। মধ্য বয়স পার করেছেন। মুখে সরলতার ছাপ।
আমার সাথে আগেই পরিচয় হয়েছে। তাই ইতস্তত না করে জিজ্ঞেস করলাম, "চাচা কী শুনছেন?
চাচাঃ এগুলো মারেফাতী গান।
বললাম, "কিন্তু, সাথে মিউজিক কেন? এতো ইসলামে হারাম,"
বললেন, "গানগুলো খুব ভালো, তাছাড়া এতে শরিয়ত, তরিকত, মারেফাতের ব্যাপার আছে। আপনি বুঝবেননা।"
বুঝলাম, চাচা পীরপন্থী। আর পীরদের মধ্যে শরিয়ত, তরিকত, হাকিকত ও মারেফাতের একটি ধারণা আছে। এগুলো দ্বারা সত্যিকারে তারা কী বোঝান আমি ভালো জানি না। তবে এটুকু জানি যে মারেফাতে পৌঁছলে নাকি আর শরিয়ত মানা লাগে না। যেমন, নামাজ, রোযা মানা আবশ্যক নয়।
তবে চাচার মুখে তরিকত শব্দটি শুনে মনে হল শব্দটির সঠিক অর্থ ও তাৎপর্য আমার কাছে অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠল। শব্দটির শাব্দিক অর্থ হল পথ, পন্থা, কর্মনীতি।
আমার কাছে মনে হচ্ছে, শরিয়ত তথা ইসলামের বিধি বিধান মানতে হলে সঠিক তরিকত মানতে হবে। অর্থ্যাৎ পন্থা হতে হবে হালাল।
তো চাচাকে বললাম, "কিন্তু, গান ভালো হলেও সাথে যে বাদ্য বাজছে তা তো হারাম। গান শোনা হালাল, কিন্তু মিউজিকতো হারাম। তাহলে এখানে তরিকত তো হারাম যদিও শরিয়তের বাইরে যাওয়া হয়নি।
যেমন মসজিদে যাওয়া ভালো কাজ। কিন্তু কেউ যদি হাফ-প্যান্ট পরে মসজিদে যায়, পন্থা হারাম হবার কারণে কাজটি আর ভালো থাকলো না। তার মানে শরিয়ত মানার সাথে সাথে তরিকতও মানতে হবে।
আবার ধরুণ, এক লোক ব্যাপক দানশীল। কিন্তু তার আয়ের উৎস হল চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি। তাহলে দান করার মত এত ভালো কাজটিও কিন্তু সমর্থিত থাকলো না।"
চাচা একমত হলেন, "হ্যাঁ, তরিকত মানতে হবে"
এবার নিজেই উদাহরণ দিলেন, "কেউ ডাকাতি করে ৫ কোটি টাকা আয় করে যদি ২ কোটি টাকা দান করে দেন, তাতে তো কোন লাভ নেই" 

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন