শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৩

বিস্ময়কর কুরআন:গ্যারি মিলার; পর্ব-৬; যুলকারনাইনের প্রাচীর আবিষ্কার

শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৩
পর্ব-৫
তুমি/তোমরা আগে এটা জানতেনা!![এটা বইয়ের একটা অনুচ্ছেদের শিরোনাম-ব্লগার]
নিঃসন্দেহে এটা কুরআনের এমনই এক মনোভঙ্গি যেটা আর কোথাও পাওয়া যাবেনা। কুরআন যেভাবে কোন তথ্য দিয়ে এর পাঠককে বলে 'তুমি আগে এটা জানতেনা' এ ব্যাপারটি খুবই হৃদয়গ্রাহী। ব্স্তুতই বর্তমানে অন্যকোন ধর্মগ্রন্থই এমন দাবী করেনা।বর্তমানে মানুষের কাছে থাকা অন্য সকল প্রাচীন সাহিত্যকর্ম বা ধর্মগ্রন্থ অনেকখানি তথ্য দেয় কিন্তু পাশাপাশি তথ্যের উৎসও উল্লেখ করে দেয়।

উদাহরণস্বরূপ, বাইবেলে যখন প্রাচীন ইতিহাসের কথা বলা হয়, বলা হয় যে এই রাজা এখানে বাস করত, ওই রাজা এই যুদ্ধটিতে অংশ নিয়েছে বা আরেকজনের এতজন ছেলে ছিল ইত্যাদি তবুও শর্তারোপ করে বলা হয় যে আরো জানতে হলে অমুক বইটি পড়তে হবে কারণ তথ্যটা সেখান থেকেই নেওয়া। এই ধারণার বিপরীতে, কুরআন পাঠককে কোন একটি তথ্য দিয়ে বলে এটা একটা নতুন তথ্য। প্রদত্ত তথ্যকে বিশ্লেষণ ও নির্ভুলতা যাচাই করবার পরামর্শতো থাকেই। এটাও কৌতুহলোদ্দেীপক যে ১৪০০ বছর আগে এই কৌশলটাকে কোন অমুসলিম চ্যালেন্জ করতে পারেনি। প্রকুতপক্ষে মক্কাবাসীরা যারা মুসলিমদের ঘৃণা করত তারা সময় সময় শুনত যে এই ওহী নতুন তথ্য নিয়ে আসার দাবী করছে তবুও তারা কখনো বলতে পারেনি 'না এটা নতুন নয়, আমরা জানি মুহাম্মাদ সা. এটা কোথায় পেয়েছে, আমরা এটা শিক্ষালয়ে জেনেছি' । তারা কখনোই এর নির্ভুলতাকে চ্যালেন্জ করতে পারেনি কারণ বাস্তবিকই এটা নতুন ছিল!

কুরআনে প্রদত্ত তথ্যেকে অনুসন্ধানের পরামর্শানুযায়ী (যদিও তথ্যটা নতুন হয়) উমর রা. খলীফা থাকাকালীন একদল মানুষকে বাছাই করে যুলকারনাইনের প্রাচীর খুঁজে বের করতে পাঠালেন।কুরআন নাযিলের আগে আরবরা কখনোই এমন কোন প্রাচীরের কথা শুনেনি, কিন্তু কুরআন এটার কথা আলোচনা করায় তারা এটা আবিষ্কার করে ফেলল। বাস্তবিকপক্ষে, বর্তমানে রাশিয়ার ডারবেন্ড (Durbend) নামক স্হানে এটি অবস্থিত।

(ব্লগারের মন্তব্য: কয়েকজন পাঠক উক্ত প্রাচীরের রাশিয়ায় বিরাজমান হবার ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তবে অনুবাদের ধারা ঠিক রাখতেই এটাও অনুবাদ করতে হয়েছে। লেখকই ভাল জানেন প্রকৃত ব্যাপার কী। তবে এটুকু অসংগতি (যদি হয়েও থাকে) বইয়ের সত্যিকার স্যেন্দর্য্য ও গুরুত্বকে প্রভাবিত করবে না।)

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন