রবিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৩

দারসুল কুরআন; সুরা তাওবা (২৩-২৪ আয়াত)

রবিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৩
১. নির্বাচিতাংশঃ
 يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا آبَاءَكُمْ وَإِخْوَانَكُمْ أَوْلِيَاءَ إِنِ اسْتَحَبُّوا الْكُفْرَ‌ عَلَى الْإِيمَانِ ۚ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ ﴿٢٣﴾ قُلْ إِن كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَ‌تُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَ‌فْتُمُوهَا وَتِجَارَ‌ةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْ‌ضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللَّـهِ وَرَ‌سُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَ‌بَّصُوا حَتَّىٰ يَأْتِيَ اللَّـهُ بِأَمْرِ‌هِ ۗ وَاللَّـهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ
২. সরল অনুবাদঃ
২৩: “হে ঈমান আনয়নকারীগণ! তোমরা তোমাদের পিতা ও ভাইদেরকে বন্ধু (অভিভাবক, পরামর্শদাতা) হিসেবে গ্রহণ করো না যদি তারা ঈমানের উপর কুফরকে প্রাধান্য দেয়(*ক)। তোমাদের মধ্যে যারা তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে তারাই জালিম।
২৪. বলুন (হে নবী!), যদি তোমাদের  পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের আত্মীয়-স্বজন, তোমাদের উপার্জিত সম্পদ, তোমাদের যে ব্যাবসায়ের মন্দার ভয় তোমরা কর ( প্রকাশ্যে জিহাদে যোগদান করলে) এবং তোমাদের প্রিয় বাসস্থান যদি আল্লাহ, তাঁর রাসুল এবং আল্লাহর পথে জিহাদের চেয়ে প্রিয় হয়, তাহলে আল্লাহর ফায়সালা আসা পর্যন্ত অপেক্ষা কর। আল্লাহ ফাসিকদের সঠিক পথে চালিত করেন না।”
৩. নামকরণঃ
আলোচ্য সূরাটি  ‍দু‘টি  নামে পরিচিত- আত্ তাওবাহ (দোষ স্বীকার করে ও ক্ষমা চেয়ে পুনরায় আল্লাহর দিকে ও তাকওয়ার পথে ফিরে আসা) ও আল বারা’আত (সম্পর্কচ্ছেদ- এক্ষেত্রে মুসলিমদের সাথে মক্কার তৎকালীন মুশরিকদের সম্পর্কচ্ছেদের কথা আলোচিত হয়েছে)। সূরার প্রথম আয়াতেই بَرَ‌اءَةٌ  শব্দটির উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া সূরার এক জায়গায় কতিপয় মুমিনের গুনাহ মাফের প্রসঙ্গ উল্লেখিত হয়েছে। তবুও অন্যান্য সূরার মতই শুধু তাওবা বা বারা’আত সূরাটির আলোচ্য বিষয় নয়। কুরআনের অন্যান্য অনেক সূরার মতই সূরাটিকে অন্যান্য সূরা থেকে আলাদা হিসেবে চিহ্তি করার জন্যেই এ নামকরণ করা হয়েছে।
৪. প্রেক্ষাপটঃ
এ সূরাটি তিনটি পর্যায়ে নাজিল হওয়া তিনটি ভাষণের সমষ্টি।
১ম ভাষণঃ সূরার শুরু থেকে ৫ম রুকুর শেষ নাগাদ অর্থ্যাৎ ৩৭ আয়াত পর্যন্ত। এ অংশ নাজিল হয়েছিল ৯ম হিজরির যিলকদ মাস বা তার কাছাকাছি সময়ে। রাসুল সা. সে বছর হযরত আবু বকর রা. কে আমীরুল হাজ্জ নিযুক্ত করে মক্কায় পাঠিয়েছিলেন। পরে এ ভাষণ নাজিল হলে হযরত আলী রা. কে পিছনে পাঠানো হয় যাতে সমগ্র আরবের প্রতিনিধিত্বশীল সমাবেশে তা প্রচার করা যায়।
২য় ভাষণঃ ৬ষ্ঠ রুকু থেকে ৯ম রুকুর শেষ পর্যন্ত তথা ৩৮ আয়াত থেকে ৬৮ আয়াত পর্যন্ত। এটি ৯ম হিজরীর রজব মাসে বা তার কিছু আগে তাবুক যুদ্ধের পূর্বে নাজিল হয়। 
৩য় ভাষণঃ এটি ১০ রুকু থেকে শেষ রুকু তথা ১৬ রুকুর শেষ পর্যন্ত তথা ৬৯ আয়াত থেকে ১২৯ আয়াত। তাবুক যুদ্ধ থেকে ফিরে আসার পর এ অংশ নাজিল হয়।
তাবুক যুদ্ধের ১ বছর পূর্বে একই প্রতিপক্ষ রোমকদের সাথে সংঘটিত হয়েছিল মূতার যুদ্ধ। সে যুদ্ধে ৩ হাজার সদস্যের মুসলিম বাহিনী এক লাখের রোমক বাহিনীকে নাস্তানাবুদ করে দেয়। ফলশ্রুতিতে এ যুদ্ধে শত প্রতিকূলতা সত্বেও মুসলিমরা ৩০ হাজার সদস্যের বাহিনী প্রস্তুত করেন। এতে ভয় পেয়ে রোমকরা ২ লাখ সৈন্য নিয়েও মোকাবেলার সাহস না করে ময়দানে অনুপস্থিত থাকে। ফলে মুসলিমরা বিরাট নৈতিক বিজয় লাভ করে এবং আরবের বাইরে ইসলামের যে হাওয়া মূতার যুদ্ধের মাধ্যমে বয়ে যাওয়া শুরু হয়েছিল এ বিজয়ে তা আরো শক্তি সঞ্চয় করল।
এ যুদ্ধেই তিনজন নিষ্ঠাবান সাহাবী ও জিহাদে অনুপস্থিত রয়ে যান। তারা হলেন কা’ব বিন মালিক, হেলাল ইবনে উমাইয়্যা ও মুরারা ইবনে রুবাঈ। পরে অবশ্য অকৃত্রিম তাওবার মাধ্যমে তাঁরা আল্লাহর সন্তুষ্টি আদায় করেন।
৫. বিষয়বস্তুঃ
এ সূরাটি মূলত জিহাদ-প্রধান সূরা। প্রথম ভাষণে মক্কার মুশরিকদের তথাকথিত ধর্মীয় আচার পালন ও ইসলামের মূল শিক্ষাকে পরিহারের নিন্দা করা হয়েছে। যেমন বলা হয়েছে হাজীদের পানি করানো ও আল্লাহর পথে জিহাদ কখনোই সমান নয় (১৯ নং আয়াত)। এছাড়া কাবা ঘরের দায়দায়িত্ব শিরকবাদীদের হাতে থাকতে পারে না বরং তাওহীদবাদীদের হাতে থাকেব-এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
২য় ভাষণে তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্যে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে এবং ৩য় ভাষণে তাবুক যুদ্ধে অনুপস্থিত থাকা মুনাফিকদের তিরস্কার করা হয়েছে।
আলোচ্য আয়াতদ্বয়ে বলা হয়েছে ঈমানের বিপরীতে ও কুফরীর সপক্ষে বললে পিতা ও ভাইকেও পরামর্শদাতা বা বন্ধু বানানো যাবে না। এছাড়াও যেসব বস্তু মানুষকে আল্লাহর পথে জিহাদ করা থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে সেগুলোর ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দেওয়া হয়েছে।

ব্যাখ্যাঃ
 ক. কুরআনের অন্যত্র আমরা দেখি কাফির, ইয়াহুদী বা খ্রীস্টানদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে ।
যেমন (মায়েদা, ৫:৫৫) -
“হে মুমিনগণ, আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে যারা তোমাদের ধর্মকে উপহাস ও খেলা মনে করে, তাদেরকে এবং অন্যান্য কাফেরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না।”
(মায়েদা, ৫::৫১-)

“ হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।...”
 (সূরা মুমতাহিনা, ৬০:::১)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ
অর্থ- “মুমিনগণ, তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধরূপে গ্রহণ করো না”
 অর্থ্যাৎ পিতা ও ভাই মুসলিম হয়েও যদি ঈমানের বিপরীত পরামর্শ প্রদান করে তাহলে বুঝতে

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন