শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০১৬

কুরআনে আছে আপনার কথাও!

শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০১৬
[সূত্রঃ সাইয়্যেদ কুতুব এর তাফসীর ফি যিলালিল কোরআন -প্রথম খন্ড।]

হনাফ বিন কায়েস নামক একজন আরব সর্দারের কথা বলছি। তিনি ছিলেন একজন বীর যোদ্ধা। তার সাহস ও শৌর্য ছিল অপরিসীম। তাঁর তলোয়ারে ছিল লক্ষ যোদ্ধার জোর। ইসলাম গ্রহণ করার পর আল্লাহর নবী (স:)কে দেখার সৌভাগ্য তার হয়নি, তবে নবীর বহু সাথীকেই তিনি দেখেছেন। এদের মধ্যে হযরত আলী (রা:) প্রতি তার শ্রদ্ধা ছিল অপরিসীম।

একদিন তার সামনে এক ব্যক্তি কোরআনের এই আয়াতটি পড়লেন- আমি তোমাদের কাছে এমন একটি কিতাব নাযিল করেছি, যাতে 'তোমাদের কথা' আছে, অথচ তোমরা তা চিন্তা ভাবনা করো না, (সুরা আল আম্বিয়া- ১০)

আহনাফ ছিলেন আরবী সাহিত্যে গভীর পারদর্শী ব্যক্তি। তিনি ভাল করেই বুঝতেন 'যাতে শুধু তোমাদের কথাই আছে ' এই কথার অর্থ কী? তিনি অভিভূত হয়ে গেলেন কেউ বুঝি তাকে আজ নতুন কিছু শোনালো! মনে মনে বললেন , আমাদের কথা আছে ? কই কোরআন নিয়ে আসো তো? দেখি এতে আমার কথা কি আছে? তার সামনে কোরআন শরীফ আনা হলো, একে একে বিভিন্ন দল উপদলের পরিচিতি পেশ করা হচ্ছে-
একদল লোক এলো, তাদের পরিচয় এভাবে পেশ করা হলো, 'এরা রাতের বেলায় খুব কম ঘুমায়, শেষ রাতে তারা আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহখাতার জন্য মাগফেরাত কামনা করে।' (সুরা আয যারিয়াত- আয়াত ১৭-১৯)

আবার একদল লোক এলো, তাদের পরিচয় এভাবে পেশ করা হলো , 'তাদের পিঠ রাতের বেলায় বিছানা থেকে আলাদা থাকে , তারা নিজেদের প্রতিপালককে ডাকে ভয় ও প্রত্যাশা নিয়ে । তারা অকাতরে আমার দেয়া রেযেক থেকে খরচ করে।' ( সুরা হা- মীম সেজদা- ১৬)

কিছুদুর এগিয়ে যেতেই তার পরিচয় হলো আরেক দল লোকের সাথে। তাদের সম্পর্কে বলা হলো, 'রাতগুলো তারা নিজেদের মালিকের সেজদা ও দাঁড়িয়ে থাকার মধ্য দিয়ে কাটিয়ে দেয়।' (সুরা আল ফোরকান- ৬৪)

অত:পর এলো আরেকদল মানুষ, এদের সম্পর্কে বলা হলো, 'এরা দারিদ্র্য ও সাচ্ছন্দ্য উভয় অবস্থায় (আল্লাহর নামে) অর্থ ব্যয় করে, এরা রাগকে নিয়ন্ত্রণ করে, এরা মানুষদের ক্ষমা করে,বস্তুত আল্লাহ তায়ালা এসব নেককার লোকেদের দারুণ ভালোবাসেন।' ( সুরা আল ইমরান- ১৩৪)

এলো আরেকটি দল , তাদের পরিচয় এভাবে পেশ করা হলো, 'এরা (বৈষয়িক প্রয়োজনের সময়) অন্যদেরকে নিজেদেরই ওপর প্রাধান্য দেয়, যদিও তাদের রয়েছে প্রচুর অভাব ও ক্ষুধার তাড়না। যারা নিজেদেরকে কার্পণ্য থেকে দুরে রাখতে পারে তারা বড়ই সফলকাম।' (সুরা আল হাশর- ৯)
একে একে এদের সবার কথা ভাবছেন আহনাফ। এবার কোরআন তার সামনে আরেকদল লোকের কথা পেশ করলো, 'এরা বড়ো বড়ো গুনাহ ও নির্লজ্জ অশ্লীলতা থেকে বেঁচে থাকে, যখন এরা রাগান্বিত হয় তখন (প্রতিপক্ষকে ) মাফ করে দেয়, এরা আল্লাহর হুকুম আহকাম মেনে চলে, এরা নামাজের প্রতিষ্ঠা করে, এরা নিজেদের মধ্যেকার কাজকর্মগুলোকে পরামর্শের ভিত্তিতে আঞ্জাম দেয়। আমি তাদের যা দান করেছি তা থেকে তারা অকাতরে ব্যয় করে।' (সুরা আশ- শুরা- ৩৭,৩৮)

হযরত আহনাফ নিজেকে নিজে জানতেন। আল্লাহর কেতাবে বর্ণিত এ লোকদের কথাবার্তা দেখে তিনি বললেন, হে আল্লাহ তায়ালা , আমি তো এই বইয়ের কোথাও আমাকে খুজে পেলাম না। আমার কথা কই? আমার ছবি তো এর কোথাও আমি দেখলাম না , অথচ এ কিতাবে তুমি নাকি সবার কথাই বলেছো।

এবার আহনাফ ভিন্ন পথ ধরে কোরআনে নিজের ছবি খুঁজতে শুরু করলেন। এ পথে ও তার সাথে বিভিন্ন দল উপদলের সাক্ষাত হলো। প্রথমত তিনি পেলেন এমন একটি দল, যাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, 'যখন তাদের বলা হয়, অল্লাহ তায়লা ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই, তখন তারা গর্ব ও অহংকার করে এবং বলে , 'আমরা কি একটি পাগল ও কবিয়ালের জন্য আমাদের মাবুদদের পরিত্যাগ করবো?' (সুরা আস সাফফাত- ৩৫,৩৬)
তিনি আরো সামনে এগুলেন, দেখলেন আরেকদল লোক। তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, 'যখন এদের সামনে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয় তখন এদের অন্তর অত্যন্ত নাখোশ হয়ে পড়ে, অথচ যখন এদের সামনে আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্যদের কথা বলা হয় তখন এদের মন আনন্দে নেচে উঠে।' (সুরা আয যুমার-৪৫)

তিনি আরো দেখলেন, কতিপয় হতভাগ্য লোককে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, 'তোমাদের কিসে জাহান্নামের এই আগুনে নিক্ষেপ করলো?' তারা বলবে, 'আমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা করতাম না, আমরা গরীব মেসকীনদের খাবার দিতাম না, কথা বানানো যাদের কাজ- আমরা তাদের সাথে মিশে সে কাজে লেগে যেতাম। আমরা শেষ বিচারের দিনটিকে অস্বীকার করতাম', এভাবেই একদিন মৃত্যু আমাদের সামনে এসে হাজির হয়ে গেলো।' (সুরা আল মোদ্দাসসের, ৪২-৪৬)

হযরত আহনাফ কোরআনে বর্ণিত বিভিন্ন ধরনের মানুষের বিভিন্ন চেহারা ছবি ও তাদের কথা দেখলেন। বিশেষ করে এই শেষোক্ত লোকদের অবস্থা দেখে মনে মনে বললেন, হে আল্লাহ , এ ধরনের লোকদের উপর আমি তো ভয়ানক অসন্তষ্ট। আমি এদের ব্যাপারে তোমার আশ্রয় চাই। এ ধরনের লোকদের সাথে আমার কোনোই সম্পর্ক নেই।
তিনি নিজেকে নিজে ভালো করেই চিনতেন, তিনি কোনো অবস্থাতেই নিজেকে এই শেষের লোকদের দলে শামিল বলে ধরে নিতে পারলেন না। কিন্তু তাই বলে তিনি নিজেকে প্রথম শ্রেণীর লোকদের কাতারেও শামিল করতে পারছেন না। তিনি জানতেন, আল্লাহ তায়ালা তাঁকে ঈমানের দৌলত দান করেছেন। তাঁর স্থান যদিও প্রথম দিকের সম্মানিত লোকদের মধ্যে নয় কিন্তু তাই বলে তার স্থান মুসলমানদের বাইরেও তো নয়।
তার মনে নিজের ঈমানের যেমন দৃঢ় বিশ্বাস ছিলো, তেমনি নিজের গুনাহখাতার স্বীকৃতি ও সমানভাবে মজুদ ছিলো। কোরআনের পাতায় তাই এমন একটি ছবির সন্ধান তিনি করছিলেন, যাকে তিনি একান্ত 'নিজের' বলতে পারেন। তার সাথে আল্লাহ তায়ালার ক্ষমা ও দয়ার প্রতিও তিনি ছিলেন গভীর আস্থাশীল। তিনি নিজের নেক কাজ গুলোর ব্যাপারে যেমন খুব বেশী অহংকারী ও আশাবাদী ছিলেন না, তেমনিভাবে আল্লাহর রহমত থেকেও তিনি নিরাশ ছিলেন না। কোরআনের পাতায় তিনি এমনি একটি ভাল মন্দ মেশানো মানুষের ছবিই খুঁজছিলেন এবং তার বিশ্বাস ছিলো এমনি একটি মানুষের ছবি অবশ্যই তিনি এই জীবন্ত পুস্তকের কোথাও না কোথাও পেয়ে যাবেন।

কেন, তারা কি আল্লাহর বান্দা নয় যারা ঈমানের 'দৌলত' পাওয়া সত্বেও নিজেদের গুনাহর ব্যাপারে থাকে একান্ত অনুতপ্ত। কেন, আল্লাহ তায়ালা কি এদের সত্যিই নিজের অপরিসীম রহমত থেকে মাহরূম রাখবেন? এই কেতাবে যদি সবার কথা থাকতে পারে তাহলে এ ধরনের লোকের কথা থাকবে না কেন? এই কেতাব যেহেতু সবার, তাই এখানে তার ছবি কোথাও থাকবে না- এমন তো হতেই পারে না। তিনি হাল ছাড়লেন না । এই পুস্তকে নিজের ছবি খুঁজতে লাগলেন। আবার তিনি কেতাব খুললেন।

কোরআনের পাতা উল্টাতে উল্টাতে এক জায়গায় সত্যিই আহনাফ 'নিজেকে' উদ্ধার করলেন। খুশীতে তার মন ভরে উঠলো। আজ তিনি কোরআনে নিজের ছবি খুঁজে পেয়েছেন, সাথে সাথেই বলে উঠলেন, হ্যাঁ, এইতো আমি !

'হ্যাঁ এমন ধরনের কিছু লোকও আছে যারা নিজেদের গুনাহ স্বীকার করে। এরা ভালো মন্দ মিশিয়ে কাজকর্ম করে - কিছু ভালো কিছু মন্দ। আশা করা যায় আল্লাহ তায়ালা এদের ক্ষমা করে দেবেন। অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা বড়ো দয়ালু বড়ো ক্ষমাশীল।' (সুরা আত তাওবা- ১০২)

হযরত আহনাফ আল্লাহর কেতাবে নিজের ছবি খুঁজে পেয়ে গেলেন, বললেন, 'হাঁ, এতক্ষণ পর আমি আমাকে উদ্ধার করেছি। আমি আমার গুনাহর কথা অকপটে স্বীকার করি, আমি যা কিছু ভালো কাজ করি তাও আমি অস্বীকার করি না। এটা যে আল্লাহর একান্ত দয়া তাও আমি জানি। আমি আল্লাহর দয়া ও তাঁর রহমত থেকে নিরাশ নই। কেননা এই কেতাবই অন্যত্র বলছে, 'আল্লাহর দয়া থেকে তারাই নিরাশ হয় যারা গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট'। (সুরা আল হিজর- ৫৬)
হযরত আহনাফ দেখলেন, এসব কিছুকে একত্রে রাখলে যা দাঁড়ায় তাই হচ্ছে তার 'ছবি'।

কোরআনের মালিক আল্লাহ তায়ালা নিজের এ গুনাহগার বান্দাহর কথা তার কেতাবে বর্ণনা করতে ভুলেননি!
হযরত আহনাফ কোরআনের পাঠকের কথার সত্যতা অনুধাবন করে নিরবে বলে উঠলেন, 'হে মালিক, তুমি মহান, তোমার কেতাব মহান, সত্যিই তোমার এই কিতাবে দুনিয়ার গুণী-জ্ঞানী , পাপী-তাপী, ছোট-বড়, ধনী-নির্ধন, সবার কথাই আছে। তোমার কেতাব সত্যিই অনুপম। '

সুত্র:
টেক্সট লিঙ্কঃ http://www.bishorgo.com/user/469/post/976

রবিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৫

সুরা নামল এর শানে নুযুল

রবিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৫
ইসলামী সঙ্গীত ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
সুরার নামঃ আন নামল (النَّمْلِ)
নামের অর্থঃ পিঁপড়া
নামকরণের রেফারেন্সঃ আয়াত নং ১৮
সুরা ক্রমঃ ২৭
নাযিলের সময়কালঃ মাক্কী যুগের মাঝামাঝি সময়
মোট আয়াতঃ ৯৩

নামকরণঃ
সুরার ১৮ নং (দ্বিতীয় রুকূ’র চতুর্থ) আয়াতে وَادِ النَّمْلِ এর কথা বলা হয়েছে। সূরার নাম এখান থেকেই গৃহীত হয়েছে। অর্থ্যাৎ এমন সূরা যাতে নামল এর কথা বলা হয়েছে। অথবা যার মধ্যে নামল শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।

নাযিলের সময়-কালঃ
বিষয়বস্তু ও বর্ণনাভংগীর দিক দিয়ে এ সূরা মক্কার মধ্যযুগের সূরাগুলোর সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্য রাখে। হাদীস থেকেও এর সমর্থন মেলে। ইবনে আব্বাস (রা.) ও জাবের ইবনে যায়েদের (রা.) বর্ণনা হচ্ছে, “প্রথমে নাযিল হয় সূরা আশ শু’আরা তারপর আন নামল এবং তারপর আল কাসাস।”

বিষয়বস্তু ও আলোচ্য বিষয়ঃ
এ সূরায় দু’টি ভাষণ সন্নিবেশিত হয়েছে। প্রথম ভাষণটি শুরু হয়েছে সূরার সূচনা থেকে চতুর্থ রুকূ’র শেষ পর্যন্ত (আয়াত ৫৮ পর্যন্ত)। আর দ্বিতীয় ভাষণটি পঞ্চম রুকূ’র শুরু থেকে সূরার শেষ পর্যন্ত (৫৯ থেকে ৯৩ আয়াত) বিস্তৃত।
প্রথম ভাষণটিতে বলা হয়েছে, কুরআনের প্রথম নির্দেশনা থেকে একমাত্র তারাই লাভবান হতে পারে এবং তার সুসংবাদসমূহ লাভের যোগ্যতা একমাত্র তারাই অর্জন করতে পারে যারা এ কিতাব যে সত্যসমূহ উপস্থাপন করে সেগুলোকে এ বিশ্ব-জাহানের মৌলিক সত্য হিসেবে স্বীকার করে নেয়। তারপর এগুলো মেনে নিয়ে নিজেদের বাস্তব জীবনেও আনুগত্য ও অনুসরনের নীতি অবলম্বন করে। কিন্তু এ পথে আসার ও চলার ক্ষেত্রে যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশী প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে সেটি হচ্ছে আখেরাত অস্বীকৃতি। কারণ এটি মানুষকে দায়িত্বহীন, প্রবৃত্তির দাস ও দুনিয়াবী জীবনের প্রেমে পাগল করে তোলে। এরপর মানুষের পক্ষে আল্লাহর সামনে নত হওয়া এবং নিজের প্রবৃত্তির কামনার ওপর নৈতিকতার বাঁধন মেনে নেয়া আর সম্ভব থাকে না। এ ভূমিকার পর তিন ধরনের চারিত্রিক আদর্শ পেশ করা হয়েছে।

একটি আদর্শ ফেরাউন, সামূদ জাতির সরদারবৃন্দ ও লূতের জাতির বিদ্রোহীদের। তাদের চরিত্র গঠিত হয়েছিল পরকাল চিন্তা থেকে বেপরোয়া মনোভাব এবং এর ফলে সৃষ্ট প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে। তারা কোন নিদর্শন দেখার পরও ঈমান আনতে প্রস্তুত হয়নি। পক্ষান্তরে যারা তাদেরকে কল্যাণ ও সুকৃতির প্রতি আহবান জানিয়েছে তাদেরই তারা শত্রু হয়ে গেছে। যেসব অসৎকাজের জঘন্যতা ও কদর্যতা কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে প্রছন্ন নয় সেগুলোকেও তারা আঁকড়ে ধরেছে। আল্লাহর আযাবে পাকড়াও হবার এক মুহূর্ত আগেও তাদের চেতনা হয়নি।

দ্বিতীয় আদর্শটি হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের। আল্লাহ তাঁকে অর্থ-সম্পদ, রাষ্ট্র-ক্ষমতা, পরাক্রম, মর্যাদা ও গৌরব এত বেশী দান করেছিলেন যে মক্কার কাফেররা তার কল্পনাও করতে পারতো না। কিন্তু এতসব সত্ত্বেও যেহেতু তিনি আল্লাহর সামনে নিজকে জবাবদিহি করতে হবে মনে করতেন এবং তাঁর মধ্যে এ অনুভূতিও ছিল যে, তিনি যা কিছুই লাভ করেছেন সবই আল্লাহর দান তাই তাঁর মাথা সবসময় প্রকৃত নিয়ামত দানকারীর সামনে নত হয়ে থাকতো এবং আত্ম অহমিকার সামান্যতম গন্ধও তাঁর চরিত্র ও কার্যকলাপে পাওয়া যেতো না।

তৃতীয় আদর্শ সাবার রাণীর। তিনি ছিলেন আরবের ইতিহাসের বিপুল খ্যাতিমান ধনাঢ্য জাতির শাসক। একজন মানুষকে অহংকার মদমত্ত করার জন্য যেসব উপকরণের প্রয়োজন তা সবই তাঁর ছিল। যেসব জিনিসের জোরে একজন মানুষ আত্মম্ভরী হতে পারে তা কুরাইশ সরদারদের তুলনায় হাজার লক্ষগুন বেশী তাঁর আয়ত্বাধীন ছিল। তাছাড়া তিনি ছিলেন একটি মুশরিক জাতির অন্তর্ভুক্ত। পিতৃপুরুষের অনুসরণের জন্যও এবং নিজের জাতির মধ্যে নিজের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত রাখার উদ্দেশ্যেও তাঁর পক্ষে শিরক ত্যাগ করে তাওহীদের পথ অবলম্বন করা সাধারণ একজন মুশরিকের জন্য যতটা কঠিন হতে পারে তার চেয়ে অনেক বেশী কঠিন ছিল। কিন্তু যখনই তাঁর সামনে সত্য সুস্পষ্ট হয়ে গেছে তখনই তিনি সত্যকে গ্রহণ করে নিয়েছেন। এ পথে কেউ বাঁধা দিয়ে তাঁকে ঠেকিয়ে রাখেত পারেনি। কারণ তাঁর মধ্যে যে ভ্রষ্টতা ও বিভ্রান্তি ছিল নিছক একটি মুশরিকী পরিবেশে চোখ মেলার ফলেই তা সৃষ্টি হয়েছিল। প্রবৃত্তির উপসনা ও কামনার দাসত্ব করার রোগ তাঁকে পেয়ে বসেনি। তাঁর বিবেক আল্লাহর সামনে জবাবদিহির অনুভূতি শূন্য ছিল না।

দ্বিতীয় ভাষণে প্রথমে বিশ্ব-জাহানের কয়েকটি সুস্পষ্ট ও অকাট্য সত্যের প্রতি ইঙ্গিত করে মক্কার কাফেরদেরকে একের পর এক প্রশ্ন করা হয়েছেঃ বলো, যে শিরকে তোমরা লিপ্ত হয়েছো এ সত্যগুলো কি তার সাক্ষ্য দেয় অথবা এ কুরআনে যে তাওহীদের শিক্ষা দেয়া হচ্ছে তার সাক্ষ্য দেয়? এরপর কাফেরদের আসল রোগের প্রতি অংগুলি নির্দেশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যে জিনিসটি তাদেরকে অন্ধ করে রেখেছে, যে কারণে তারা সবকিছু দেখেও কিছুই দেখে না এবং সবকিছু শুনেও কিছুই শোনে না সেটি হচ্ছে আসলে আখেরাত অস্বীকৃতি। এ জিনিসটিই তাদের জন্য জীবনের কোন বিষয়েই কোন গভীরতা ও গুরুত্বের অবকাশ রাখেনি। কারণ তাদের মতে শেষ পর্যন্ত সবকিছুই যখন ধ্বংস হয়ে মাটিতে মিশে যাবে এবং দুনিয়ার জীবনের এসব সংগ্রাম-সাধনার কোন ফলাফল প্রকাশ পাবে না তখন মানুষের জন্য সত্য ও মিথ্যা সব সমান। তার জীবন ব্যবস্থা সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত না অসত্যের ওপর, এ প্রশ্নের মধ্যে তার জন্য আদতে কোন গুরুত্বই থাকে না।

কিন্তু আসলে এ আলোচনার উদ্দেশ্য হতাশা নয়। অর্থাৎ তারা যখন গাফিলতির মধ্যে ডুবে আছে তখন তাদেরকে দাওয়াত দেয়া নিষ্ফল, এরূপ মনোভাব সৃষ্টি এ আলোচনার উদ্দেশ্য নয়। বরং এর উদ্দেশ্য হচ্ছে আসলে নিদ্রিতদেরকে ঝাঁকুনি দিয়ে জাগানো। তাই ষষ্ঠ ও সপ্তম রুকূ’তে একের পর এক এমন সব কথা বলা হয়েছে যা লোকদের মধ্যে আখেরাতের চেতনা জাগ্রত করে, তার প্রতি অবহেলা ও গাফিলতি দেখানোর ফলাফল সম্পর্কে তাদেরকে সতর্ক করে এবং তার আগমনের ব্যাপারে তাদেরকে এমনভাবে নিশ্চিত করে যেমন এক ব্যক্তি নিজের চোখে দেখা ঘটনা সম্পর্কে যে তা চোখে দেখেনি তাকে নিশ্চিত করে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে কুরআনের আসল দাওয়াত অর্থাৎ এক আল্লাহর বন্দেগীর দাওয়াত অতি সংক্ষেপে কিন্তু অত্যন্ত প্রভাবশালী ভংগীতে পেশ করে লোকদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এ দাওয়াত গ্রহণ করলে তোমাদের নিজেদের লাভ এবং একে প্রত্যাখ্যান করলে তোমাদের নিজেদেরই ক্ষতি হবে। একে মেনে নেবার জন্য যদি আল্লাহর এমন সব নিদর্শনের অপেক্ষা করতে থাকো যেগুলো এসে যাবার পর আর না মেনে কোন গত্যন্তর থাকবে না, তাহলে মনে রেখো সেটি চূড়ান্ত মীমাংসার সময়। সে সময় মেনে নিলে কোন লাভই হবে না।

সূত্রঃ
১। বাংলা তাফহীমুল কুরআন 

সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৫

সুরা শুআরার শানে নুযুল

সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৫
ইসলামী সঙ্গীত ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন 

নামকরণঃ
২২৪ আয়াতের وَالشُّعَرَاءُ يَتَّبِعُهُمُ الْغَاوُونَ থেকে সূরার নামটি গৃহীত হয়েছে। নামের অর্থ কবিগণ।

নাযিলের সময়-কালঃ
বিষয়বস্তু ও বর্ণনাভংগী থেকে বুঝা যাচ্ছে এবং হাদীস থেকে এর সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে যে, এ সূরাটির নাযিলের সময়-কাল হচ্ছে মক্কার মধ্যবর্তীকালীন যুগ। ইবনে আব্বাসের (রা.) বর্ণনা মতে প্রথমে সূরা তা-হা নাযিল হয়, তারপর ওয়াকি’আহ এবং এরপর সূরা আশ্ শু’আরা। (রূহুল মাআনী, ১৯ খণ্ড, ৬৪ পৃষ্ঠা) আর সূরা তা-হা সম্পর্কে জানা আছে, এটি হযরত উমরের (আ) ইসলাম গ্রহণের পূর্বে নাযিল হয়েছিল।

বিষয়বস্তু ও আলোচ্য বিষয়ঃ
ভাষণের পটভূমি হচ্ছে, মক্কার কাফেররা লাগাতার অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াত ও তাবলীগের মোকাবিলা করছিল। এজন্য তারা বিভিন্ন রকমের বাহানাবাজীর আশ্রয় নিচ্ছিল। কখনো বলতো, তুমি তো আমাদের কোন চিহ্ন দেখালে না, তাহলে আমরা কেমন করে তোমাকে নবী বলে মেনে নেবো। কখনো তাঁকে কবি ও গণক আখ্যা দিয়ে তাঁর শিক্ষা ও উপদেশাবলীকে কথার মারপ্যাঁচে উড়িয়ে দেবার চেষ্টা করতো। আবার কখনো তাঁর মিশনকে হালকা ও গুরুত্বহীন করে দেবার জন্য বলতো, কয়েকজন মূর্খ ও অর্বাচীন যুবক অথবা সমাজের নিম্ন শ্রেণীর লোক তাঁর অনুসারী হয়েছে, অথচ এ শিক্ষা যদি তেমন প্রেরণাদায়ক ও প্রাণপ্রবাহে পূর্ণ হতো তাহলে জাতির শ্রেষ্ঠ লোকেরা, পণ্ডিত, জ্ঞানী-গুণী ও সরদাররা একে গ্রহণ করে নিতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে বলিষ্ঠ যুক্তি সহকারে তাদের আকীদা-বিশ্বাসের ভ্রান্তি এবং তাওহীদ ও আখেরাতের সত্যতা বুঝাবার চেষ্টা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন। কিন্তু তারা হঠকারিতার নিত্য নতুন পথ অবলম্বন করতে কখনোই ক্লান্ত হতো না। এ জিনিসটি রসূলুল্লাহর (সা.) জন্য অসহ্য মর্মযাতনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল এবং এ দুঃখে তিনি চরম মানসিক পীড়ন অনুভব করছিলেন।

এহেন অবস্থায় এ সূরাটি নাযিল হয়। বক্তব্যের সূচনা এভাবে হয়ঃ তুমি এদের জন্য ভাবতে ভাবতে নিজের প্রাণ শক্তি ধ্বংস করে দিচ্ছো কেন? এরা কোন নিদর্শন দেখেনি, এটাই এদের ঈমান না আনার কারণ নয়। বরং এর কারণ হচ্ছে, এরা একগুয়ে ও হঠকারী। এরা বুঝালেও বুঝে না। এরা এমন কোন নিদর্শনের প্রত্যাশী, যা জোরপূর্বক এদের মাথা নুইয়ে দেবে। আর এ নিদর্শন যথাসময়ে যখন এসে যাবে তখন তারা নিজেরাই জানতে পারবে, যে কথা তাদেরকে বুঝানো হচ্ছিল তা একেবারেই সঠিক ও সত্য ছিল। এ ভূমিকার পর দশ রুকূ’ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে যে বিষয়বস্তুটি বর্ণিত হয়েছে তা হচ্ছে এই যে, সত্য প্রত্যাশীদের জন্য আল্লাহর নিদর্শন সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে। সেগুলো দেখে তারা সত্যকে চিনতে পারে। কিন্তু হঠকারীরা কখনো বিশ্ব-জগতের নিদর্শনাদি এবং নবীদের মু’জিযাসমূহ তথা কোন জিনিস দেখেও ঈমান আনেনি। যতক্ষণ না আল্লাহর আযাব এসে তাদেরকে পাকড়াও করেছে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা নিজেদের গোমরাহীর ওপর অবিচল থেকেছে। এ সম্বন্ধের প্রেক্ষিতে এখানে ইতিহাসের সাতটি জাতির অবস্থা পেশ করা হয়েছে। মক্কার কাফেররা এ সময় যে হঠকারী নীতি অবলম্বন করে চলছিল ইতিহাসের এ সাতটি জাতিও সেকালে সেই একই নীতির আশ্রয় নিয়েছিল। এ ঐতিহাসিক বর্ণনার আওতাধীনে কতিপয় কথা মানস পটে অংকিত করে দেয়া হয়েছে।

একঃ নিদর্শন দু’ধরনের। এক ধরনের নিদর্শন আল্লাহর যমীনে চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে। সেগুলো দেখে প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি নবী যে জিনিসের দিকে আহবান জানাচ্ছেন সেটি সত্য হতে পারে কিনা সে সম্পর্কে অনুসন্ধান ও গবেষণা করতে পারে। দ্বিতীয় ধরনের নিদর্শন ফেরাউন ও তার সম্প্রদায় দেখেছে, নূহের সম্প্রদায় দেখেছে, আদ ও সামূদ দেখেছে, লূতের সম্প্রদায় ও আইকাবাসীরাও দেখেছে। এখন কাফেররা কোন্ ধরনের নিদর্শন দেখতে চায় এটা তাদের নিজেদের সিদ্ধান্তের ব্যাপার।

দুইঃ সকল যুগে কাফেরদের মনোভাব একই রকম ছিল। তাদের যুক্তি ছিল একই প্রকার। তাদের আপত্তি ছিল একই। ঈমান না আনার জন্য তারা একই বাহানাবাজীর আশ্রয় নিয়েছে। শেষ পর্যন্ত তারা একই পরিণতির সম্মুখীন হয়েছে। অন্যদিকে প্রত্যেক যুগে প্রত্যেক নবীর শিক্ষা একই ছিল। তাদের চরিত্র ও জীবননীতি একই রঙে রঞ্জিত ছিল। নিজেদের বিরোধীদের মোকাবিলায় তাঁদের যুক্তি-প্রমাণের ধরণ ছিল একই। আর তাঁদের সবার সাথে আল্লাহর রহমতও ছিল একই ধরনের। এ দু’টি আদর্শের উপস্থিতি ইতিহাসের পাতায় রয়েছে। কাফেররা নিজেরাই দেখতে পারে তাদের নিজেদের কোন ধরনের ছবি পাওয়া যায় এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যক্তিসত্তায় কোন্ ধরনের আদর্শের নিদর্শন পাওয়া যায়।

তৃতীয় যে কথাটির বারবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে সেটি হচ্ছে আল্লাহ একদিকে যেমন অজেয় শক্তি, পরাক্রম ও ক্ষমতার অধিকারী অপরদিকে তেমনি পরম করুণাময়ও। ইতিহাসে একদিকে রয়েছে তাঁর ক্রোধের দৃষ্টান্ত এবং অন্যদিকে রহমতেরও। এখন লোকদের নিজেদেরকেই এ সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, তারা নিজেদের তাঁর রহমতের যোগ্য বানাবে না ক্রোধের।

শেষ রুকূ’তে এ আলোচনাটির উপসংহার টানতে গিয়ে বলা হয়েছে, তোমরা যদি নিদর্শনই দেখতে চাও, তাহলে ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলো যেসব ভয়াবহ নিদর্শন দেখেছিল সেগুলো দেখতে চাও কেন? এ কুরআনকে দেখো। এটি তোমাদের নিজেদের ভাষায় রয়েছে। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখো। তাঁর সাথীদেরকে দেখো। এটা কি কোন শয়তান বা জিনের বাণী হতে পারে? এ বাণীর উপস্থাপককে কি তোমাদের গণক বলে মনে হচ্ছে? মুহাম্মাদ ও তাঁর সাথীদেরকে কি তোমরা কবি ও তাদের সহযোগী ও সমমনারা যেমন হয় তেমনি ধরনের দেখেছো? জিদ ও হঠকারিতার কথা আলাদা। কিন্তু নিজেদের অন্তরের অন্তস্থলে উঁকি দিয়ে দেখো সেখানে কি এর সমর্থন পাওয়া যায়? যদি মনে মনে তোমরা নিজেরাই জানো গণকবৃত্তি ও কাব্যচর্চার সাথে তাঁর দূরতম কোন সম্পর্ক নেই, তাহলে এই সাথে একথাও জেনে নাও, তোমরা জুলুম করছো, কাজেই জালেমের পরিণামই তোমাদের ভোগ করতে হবে।
সূত্রঃ
১। বাংলা তাফহীম
২। তানজিল ডট নেট

বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৫

সুরা ফুরকানের শানে নুযুল

বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৫
ইসলামী সঙ্গীত ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
নামকরণঃ 
প্রথম আয়াত تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ থেকে সূরার নাম গৃহীত হয়েছে। কুরআনের অধিকাংশ সূরার মতো এ নামটিও বিষয়বস্তু ভিত্তিক শিরোনাম নয় বরং আলামত হিসেবে সন্নিবেশিত হয়েছে। তবুও সূরার বিষয়বস্তুর সাথে নামটির একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সামনের দিকের আলোচনা থেকে একথা জানা যাবে।

নাযিলের সময়-কালঃ 

বর্ণনাভঙ্গী ও বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করলে পরিষ্কার মনে হয়, এ সূরাটিও সূরা মু’মিনূন ইত্যাদিটি সূরাগুলোর সমসময়ে নাযিল হয়। অর্থাৎ সময়টি হচ্ছে, রসূলের (সা.) মক্কায় অবস্থানকালের মাঝামাঝি সময়। ইবনে জারীর ও ইমাম রাযী যাহ্হাক ইবনে মুযাহিম ও মুকাতিল ইবনে সুলাইমানের একটি রেওয়ায়ত উদ্ধৃত করেছেন। তাতে বলা হয়েছে, এ সূরাটি সূরা নিসার ৮ বছর আগে নাযিল হয়। এ হিসেবেও এর নাযিল হবার সময়টি হয় মক্কী যুগের মাঝামাঝি সময়। (ইবনে জারীর, ১৯ খণ্ড, ২৮-৩০ পৃষ্ঠা ও তাফসীরে কবীর, ৬ খণ্ড, ৩৫৮ পৃষ্ঠা)
বিষয়বস্তু ও কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয়ঃ 

কুরআন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত এবং তাঁর পেশ-কৃত শিক্ষার বিরুদ্ধে মক্কার কাফেরদের পক্ষ থেকে যেসব সন্দেহ ও আপত্তি উত্থাপন করা হতো সেগুলো সম্পর্কে এখানে আলোচনা করা হয়েছে। এর প্রত্যেকটি যথাযথ জবাব দেয়া হয়েছে এবং সাথে সাথে সত্যের দাওয়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবার খারাপ পরিণামও পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। শেষে সূরা মু’মিনূনের মতো মু’মিনদের নৈতিক গুণাবলীর একটি নকশা তৈরি করে সেই মানদণ্ডে যাচাই করে খাঁটি ও ভেজাল নির্ণয় করার জন্য সাধারণ মানুষের সামনে রেখে দেয়া হয়েছে। একদিকে রয়েছে এমন চরিত্র সম্পন্ন লোকেরা যারা এ পর্যন্ত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে এবং আগামীতে যাদেরকে তৈরি করার প্রচেষ্টা চলছে। অন্যদিকে রয়েছে এমন নৈতিক আদর্শ যা সাধারণ আরববাসীদের মধ্যে পাওয়া যায় এবং যাকে অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য জাহেলিয়াতের পতাকাবাহীরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এখন আরববাসীরা এ দু’টি আদর্শের মধ্যে কোনটি পছন্দ করবে তার ফায়সালা তাদের নিজেদেরকেই করতে হবে। এটি ছিল একটি নীরব প্রশ্ন। আরবের প্রত্যেকটি অধিবাসীর সামনে এ প্রশ্ন রেখে দেয়া হয়। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে একটি ক্ষুদ্রতম সংখ্যালঘু গোষ্ঠী ছাড়া বাকি সমগ্র জাতি এর যে জবাব দেয় ইতিহাসের পাতায় তা অম্লান হয়ে আছে।

সূত্রঃ বাংলা তাফহীম

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০১৫

রাসুল সাঃ রুকু ও কিয়ামে কী পড়তেন?

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০১৫
ইসলামী সঙ্গীত ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন
সালাতে মনোযোগ হারিয়ে ফেলার একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে, নির্দিষ্ট কিছু দোয়া সব সালাতেই পড়া। এতে করে মুখস্ত দোয়াগুলো অটোম্যাটিক পড়া হয়ে যায়, কিন্তু মন সালাতে থাকে না। অথচ রাসুল সাঃ রুকু, কিয়াম, সিজদা ও বৈঠকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ও একই সময়ে একাধিক দোয়াও পড়তেন।
আগের একটি পোস্টে আমরা দেখেছিলা রাসুল সাঃ তাকবীরে তাহরীমার পরে কী কী দোয়া পড়তেন। এখানে আমরা দেখবো তিনি রুকু ও রুকু থেকে দাঁড়িয়ে কিয়ামে কোন কোন দোয়া পড়তেন।
১। রুকুতে গিয়েঃ 
ক) আমরা সাধারণত নিচের দোয়াটি পড়ি-
অর্থঃ আমার মহান প্রতিপালক সকল ত্রুটি ও দুর্বলতা থেকে মুক্ত
খ) উপরের দোয়ার সাথে কখনো তিনি এটি যোগ করতেন-
 
অর্থঃ হে আল্লাহ, আমাদের প্রতিপালক, তুমি সকল ত্রুটি ও দুর্বলতা থেকে পবিত্র। হে আল্লাহ, আমরা তোমারই প্রশংসা করছি, আমাকে ক্ষমা করে দাও
গ) রাতের তাহাজ্জুদ ও অন্যান্য নফল সালাতে তিনি নিচের দোয়া দুটি পড়তেন- 
অর্থঃ সকল দুর্বলতা থেকে পবিত্র হে আমাদের রব, তুমি সকল ফেরেশতা ও জিবরাঈলের (আঃ) ও প্রতিপালক। 

অর্থঃ হে আল্লাহ, তোমার জন্যেই আমি নত হয়েছি, তোমার উপরই ঈমান এনেছি, তোমার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি, তোমারই উপর ভরসা করছি। আমার কান, চোখ, মগজ, হাড় ও শিরা-উপশিরা- সবই তোমার বিনয়াবনত হয়েছে। বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্যেই আমার পা উপরে উঠে ও নিচে নামে। 

২। রুকু থেকে দাঁড়ানোর সময়ে ও দাঁড়িয়ে তথা কিয়ামের সময়ের দোয়াঃ
ক) দাঁড়ানোর সময়ঃ
আমরা যেটি সাধারণত পড়ি সেটিই ঠিক আছে-
অর্থঃ আল্লাহ শুনেছেন তাঁর বান্দা কার প্রশংসা করেছে। 
খ) রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আমরা সাধারণত নিচের দোয়াটি পড়ি। এটিও ঠিক আছে-
অর্থঃ হে আমাদের প্রভু, সমস্ত প্রসংসা তোমারই জন্যে। 
গ) তবে কখনো এটি পড়তেন- 
অর্থঃ হে আমাদের প্রভু, সমস্ত প্রসংসা তোমারই জন্যে। 
ঘ) কখনো আবার এটি পড়তেন -
অর্থঃ হে আল্লাহ!  সমস্ত প্রসংসা তোমারই জন্যে। 
ঙ) অনেক সময় পড়তেন এটি-
অর্থঃ আল্লাহ ঐ ব্যক্তির প্রশংসা শোনেন যে তাঁর প্রশংসা করে। হে আমাদের রব! আসমান ও পৃথিবী পূর্ণ করা প্রশংসা তোমার। এছাড়াও তুমি যা চাও তা পূর্ণ করা প্রশংসাও তোমার। তোমার বান্দা যতোগুণ প্রশংসা ও মর্যাদার কথা বলে তা পাওয়ার তা পাওয়ার যোগ্য ও অধিকারী তুমি। আমরা সবাই তোমারই দাসানুদাস। হে আল্লাহ! তুমি যা দিতে চাও তা ঠেকাবার কেউ নেই, তুমি যা মানা করতে চাও তা দেবারও কেউ নেই। কারো ক্ষমতা ও বিত্ত তোমার দরবারে কোন উপকারে আসে না। 
চ) সহীহ সূত্রে বর্ণিত, তিনি (সাঃ) কিয়ামে এই দোয়াও পড়তেন-
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি পানি, বরফ আর শীতল জিনিস দ্বারা আমকে ভুলত্রুটি থেকে ধুয়ে মুছে পবিত্র করে দাও। এবং আমাকে আমার গুনাহখাতে থেকে ঠিক সেভাবে ঝকঝকে ত্বকত্বকে পরিচ্ছন্ন করে দাও যেভাবে ময়লা ও দাগ থেকে সাদা কাপড় ধবধবে সাদা হয়ে ওঠে। আর, আমার ও আমার ভুলত্রুটির মাঝে পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তের মতো দূরত্ব সৃষ্টি করে দাও।

তথ্য ও হাদিস সূত্রঃ আল্লাহর রাসুল সাঃ কিভাবে নামাজ পড়তেন- আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম

সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০১৫

কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা 'উমর ফারুক'

সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০১৫
Listen to great Islamic songs
তিমির রাত্রি - 'এশা'র আযান শুনি দূর মসজিদে।
প্রিয়-হারা কার কান্নার মতো এ-বুকে আসিয়ে বিঁধে!

আমির-উল-মুমেনিন,
তোমার স্মৃতি যে আযানের ধ্বনি জানে না মুয়াজ্জিন।
তকবির শুনি, শয্যা ছাড়িয়া চকিতে উঠিয়া বসি,
বাতায়নে চাই-উঠিয়াছে কি-রে গগনে মরুর শশী?
ও-আযান, ও কি পাপিয়ার ডাক, ও কি চকোরীর গান?
মুয়াজ্জিনের কন্ঠে ও কি ও তোমারি সে আহ্ববান?

আবার লুটায়ে পড়ি।
'সেদিন গিয়াছে' - শিয়রের কাছে কহিছে কালের ঘড়ি।
উমর! ফারুক! আখেরি নবীর ওগো দক্ষিণ-বাহু!
আহ্বান নয় - রূপ ধরে এস - গ্রাসে অন্ধতা-রাহু!
ইসলাম-রবি, জ্যোতি তার আজ দিনে দিনে বিমলিন!
সত্যের আলো নিভিয়া-জ্বলিছে জোনাকির আলো ক্ষীণ।
শুধু অঙ্গুলি-হেলনে শাসন করিতে এ জগতের
দিয়াছিলে ফেলি মুহম্মদের চরণে যে-শমশের
ফিরদৌস ছাড়ি নেমে এস তুমি সেই শমশের ধরি
আর একবার লোহিত-সাগরে লালে-লাল হয়ে মরি!

ইসলাম - সে তো পরশ-মানিক তাকে কে পেয়েছে খুঁজি?
পরশে তাহার সোনা হল যারা তাদেরেই মোরা বুঝি।
আজ বুঝি - কেন বলিয়াছিলেন শেষ পয়গম্বর-
'মোরপরে যদি নবী হত কেউ, হত সে এক উমর।'

অর্ধ পৃথিবী করেছ শাসন ধুলার তখতে বসি
খেজুরপাতার প্রাসাদ তোমার বারে বারে গেছে খসি
সাইমুম-ঝড়ে। পড়েছে কুটির, তুমি পড়নি ক' নুয়ে,
ঊর্ধ্বের যারা - পড়ছে তাহারা, তুমি ছিলে খাড়া ভূঁয়ে।
শত প্রলোভন বিলাস বাসনা ঐশ্বর্যের মদ
করেছে সালাম দূর হতে সব ছুঁইতে পারেনি পদ।
সবারে ঊর্ধ্বে তুলিয়া ধরিয়া তুমি ছিলে সব নিচে,
বুকে করে সবে বেড়া করি পার, আপনি রহিলে পিছে।

হেরি পশ্চাতে চাহি-
তুমি চলিয়াছ রৌদ্রদগ্ধ দূর মরুপথ বাহি
জেরুজালেমের কিল্লা যথায় আছে অবরোধ করি
বীর মুসলিম সেনাদল তব বহু দিন মাস ধরি।
দুর্গের দ্বার খুলিবে তাহারা বলেছে শত্রু শেষে-
উমর যদি গো সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করে এসে!
হায় রে, আধেক ধরার মালিক আমির-উল-মুমেনিন
শুনে সে খবর একাকী উষ্ট্রে চলেছে বিরামহীন
সাহারা পারায়ে! ঝুলিতে দু খানা শুকনো 'খবুজ' রুটি
একটি মশকে একটুকু পানি খোর্মা দু তিন মুঠি।
প্রহরীবিহীন সম্রাট চলে একা পথে উটে চড়ি
চলেছে একটি মাত্র ভৃত্য উষ্ট্রের রশি ধরি!
মরুর সূর্য ঊর্ধ্ব আকাশে আগুন বৃষ্টি করে,
সে আগুন-তাতে খই সম ফোটে বালুকা মরুর পরে।
কিছুদূর যেতে উঠ হতে নামি কহিলে ভৃত্যে, 'ভাই
পেরেশান বড় হয়েছ চলিয়া! এইবার আমি যাই
উষ্ট্রের রশি ধরিয়া অগ্রে, তুমি উঠে বস উটে,
তপ্ত বালুতে চলি যে চরণে রক্ত উঠেছে ফুটে।'

...ভৃত্য দস্ত চুমি
কাঁদিয়া কহিল, 'উমর! কেমনে এ আদেশ কর তুমি?
উষ্ট্রের পিঠে আরাম করিয়া গোলাম রহিবে বসি
আর হেঁটে যাবে খলিফা উমর ধরি সে উটের রশি?'

খলিফা হাসিয়া বলে,
'তুমি জিতে গিয়ে বড় হতে চাও, ভাই রে, এমনি ছলে।
রোজ-কিয়ামতে আল্লাহ যে দিন কহিবে, 'উমর! ওরে
করেনি খলিফা, মুসলিম-জাঁহা তোর সুখ তরে তোরে।'
কি দিব জওয়াব, কি করিয়া মুখ দেখাব রসুলে ভাই।
আমি তোমাদের প্রতিনিধি শুধু, মোর অধিকার নাই।
আরাম সুখের, -মানুষ হইয়া নিতে মানুষের সেবা।
ইসলাম বলে, সকলে সমান, কে বড় ক্ষুদ্র কেবা।

ভৃত্য চড়িল উটের পৃষ্ঠে উমর ধরিল রশি,
মানুষে স্বর্গে তুলিয়া ধরিয়া ধুলায় নামিল শশী।
জানি না, সেদিন আকাশে পুষ্প বৃষ্টি হইল কিনা,
কি গান গাহিল মানুষে সেদিন বন্দী' বিশ্ববীণা।
জানি না, সেদিন ফেরেশতা তব করেছে কি না স্তব-
অনাগত কাল গেয়েছিল শুধু, 'জয় জয় হে মানব।'

তুমি নির্ভীক, এক খোদা ছাড়া করনি ক' কারে ভয়,
সত্যব্রত তোমায় তাইতে সবে উদ্ধত কয়।
মানুষ হইয়া মানুষের পূজা মানুষেরি অপমান,
তাই মহাবীর খালদেরে তুমি পাঠাইলে ফরমান,
সিপাহ-সালারে ইঙ্গিতে তব করিলে মামুলি সেনা,
বিশ্ব-বিজয়ী বীরেরে শাসিতে এতটুকু টলিলে না।

মানব-প্রেমিক! আজিকে তোমারে স্মরি,
মনে পড়ে তব মহত্ত্ব-কথা - সেদিন সে বিভাবরী
নগর-ভ্রমণে বাহিরিয়া তুমি দেখিতে পাইলে দূরে
মায়েরে ঘিরিয়া ক্ষুদাতুর দুটি শিশু সকরুণ সুরে

কাঁদিতেছে আর দুখিনী মাতা ছেলেরে ভুলাতে হায়,
উনানে শূন্য হাঁড়ি চড়াইয়া কাঁদিয়া অকুলে চায়।
শুনিয়া সকল - কাঁদিতে কাঁদিতে ছুটে গেলে মদিনাতে
বায়তুল-মাল হইতে লইয়া ঘৃত আটা নিজ হাতে,
বলিলে, 'এসব চাপাইয়া দাও আমার পিঠের 'পরে,
আমি লয়ে যাব বহিয়া এ-সব দুখিনী মায়ের ঘরে'।
কত লোক আসি আপনি চাহিল বহিতে তোমার বোঝা,
বলিলে, 'বন্ধু, আমার এ ভার আমিই বহিব সোজা!
রোজ-কিয়ামতে কে বহিবে বল আমার পাপের ভার?
মম অপরাধে ক্ষুধায় শিশুরা কাঁদিয়াছে, আজি তার
প্রায়শ্চিত্ত করিব আপনি' - চলিলে নিশীথ রাতে
পৃষ্ঠে বহিয়া খাদ্যের বোঝা দুখিনীর আঙিনাতে!

এত যে কোমল প্রাণ,
করুণার বশে তবু গো ন্যায়ের করনি ক' অপমান!
মদ্যপানের অপরাধে প্রিয় পুত্রেরে নিজ করে
মেরেছ দোররা, মরেছে পুত্রে তোমার চোখের পরে!
ক্ষমা চাহিয়াছে পুত্র, বলেছ পাষাণে বক্ষ বাঁধি-
'অপরাধ করে তোরি মতো স্বরে কাঁদিয়াছে অপরাধী।'

আবু শাহমার গোরে
কাঁদিতে যাইয়া ফিরিয়া আসি গো তোমারে সালাম করে।

খাস দরবার ভরিয়া গিয়াছে হাজার দেশের লোকে,
'কোথায় খলিফা' কেবলি প্রশ্ন ভাসে উৎসুক চোখে,
একটি মাত্র পিরান কাচিয়া শুকায়নি তাহা বলে,
রৌদ্রে ধরিয়া বসিয়া আছে গো খলিফা আঙিনা-তলে।
হে খলিফাতুল-মুসলেমিন! হে চীরধারী সম্রাট!
অপমান তব করিব না আজ করিয়া নান্দী পাঠ,
মানুষেরে তুমি বলেছ বন্ধু, বলিয়াছ ভাই, তাই
তোমারে এমন চোখের পানিতে স্মরি গো সর্বদাই।

সূত্রঃ বাংলার কবিতা 

শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০১৫

আরবি ভাষা শেখার জন্যে কিছু বই ডাউনলোড

শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০১৫
Listen to great Islamic songs
ডাউনলোড করতে বইয়ের নামের উপর ক্লিক করুন।
১। এসো আরবি শিখি- আবু তাহের মেসবাহ
২। এসো নাহু শিখি - আবু তাহের মেসবাহ
৩। এসো সরফ শিখি -আবু তাহের মেসবাহ
শীঘ্রই আরো বই দেওয়া হবে ইনশা-আল্লাহ। 

শনিবার, ২৭ জুন, ২০১৫

শানে নুযুলঃ সুরা বনী ইসরাঈল

শনিবার, ২৭ জুন, ২০১৫
Listen to great Islamic songs 
নামকরণঃ
চার নম্বর আয়াতের অংশ বিশেষ (
) থেকে বনী ইসরাঈল নাম গৃহীত হয়েছে । বনী ইসরাঈল এই সূরার আলোচ্য বিষয় নয় । বরং এ নামটিও কুরআনের অধিকাংশ সূরার মতো প্রতীক হিসেবেই রাখা হয়েছে ।
নাযিলের সময়কালঃ
প্রথম আয়াতটিই একথা ব্যক্ত করে দেয় যে, মি’রাজের সময় এ সূরাটি নাযিল হয় । হাদীস ও সীরাতের অধিকাংশ কিতাবের বর্ণনা অনুসারে হিজরাতের এক বছর আগে মি’রাজ সংঘটিত হয়েছিল । তাই এ সূরাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মক্কায় অবস্থানের শেষ যুগে অবতীর্ণ সূরাগুলোর অন্তরভুক্ত । 
পটভূমিঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাওহীদের আওয়াজ বুলন্দ করার পর তখন ১২ বছর অতীত হয়ে গিয়েছিল । তাঁর পথ রুখে দেবার জন্য তাঁর বিরোধীরা সব রকমের চেষ্টা করে দেখছিল । তাতে সকল প্রকার বাধা বিপত্তির দেয়াল টপকে তাঁর আওয়াজ আরবের সমস্ত এলাকায় পৌঁছে গিয়েছিল । আরবের এমন কোন গোত্র ছিল না যার দু’চারজন লোক তাঁর দাওয়াতে প্রভাবিত হয়নি । মক্কাতেই আন্তরিকতা সম্পন্ন লোকদের এমন একটি ছোট্ট দল তৈরী হয়ে গিয়েছিল যারা এ সত্যের দাওয়াতের সাফল্যের জন্য প্রত্যেকটি বিপদ ও বাধা বিপত্তির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল । মদীনায় শক্তিশালী আওস ও কাযরাজ গোত্র দু’টির বিপুল সংখ্যক লোক তার সমর্থকে পরিণত হয়েছিল এখন তাঁর মক্কা থেকে মদীনায় স্থানান্তরিত হয়ে বিক্ষিপ্ত মুসলমানদেরকে এক জায়গায় একত্র করে ইসলামের মূলনীতিসমূহের ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার সময় ঘনিয়ে এসেছিল এবং অতিশীঘ্রই তিনি এ সুযোগ লাভ করতে যাচ্ছিলেন ।

বিষয়বস্তু ও আলোচ্য বিষয়ঃ
এ সূরায় সতর্ক করা, বুঝানো ও শিক্ষা দেয়া এ তিনটি কাজই একটি আনুপাতিক হারে একত্র করে দেয়া হয়েছে। সতর্ক করা হয়েছে মক্কার কাফেরদেরকে। তাদেরকে বলা হয়েছে, বনী ইসরাঈল ও অন্য জাতিদের পরিণাম থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো। আল্লাহর দেয়া যে অবকাশ খতম হবার সময় কাছে এসে গেছে তা শেষ হবার আগেই নিজেদেরকে সামলে নাও। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কুরআনের মাধ্যমে যে দাওয়াত পেশ করা হচ্ছে তা গ্রহণ করো। অন্যথায় তোমাদের ধ্বংস করে দেয়া হবে এবং তোমাদের জায়গায় অন্য লোকদেরকে দুনিয়ায় আবাদ করা হবে। তাছাড়া হিজরতের পর যে বনী ইস্রাঈলের উদ্দেশ্যে শীঘ্রই অহী নাযিল হতে যাচ্ছিল পরোক্ষভাবে তাদেরকে এভাবে সতর্ক করা হয়েছে যে, প্রথমে যে শাস্তি তোমরা পেয়েছো তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো এবং এখন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত লাভের পর তোমরা যে সুযোগ পাচ্ছো তার সদ্ব্যবহার করো। এ শেষ সুযোগটিও যদি তোমরা হারিয়ে ফেলো এবং এরপর নিজেদের পূর্বতন কর্মনীতির পুনরাবৃত্তি করো তাহলে ভয়াবহ পরিণামের সম্মুখীন হবে।
মানুষের সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য এবং কল্যাণ ও অকল্যাণের ভিত্তি আসলে কোন্ কোন্ জিনিসের ওপর রাখা হয়েছে, তা অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী পদ্ধতিতে বুঝানো হয়েছে। তাওহীদ, পরকাল, নবুওয়াত ও কুরআনের সত্যতার প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। মক্কার কাফেরদের পক্ষ থেকে এ মৌলিক সত্যগুলোর ব্যাপারে যেসব সন্দেহ-সংশয় পেশ করা হচ্ছিল সেগুলো দূর করা হয়েছে। দলীল-প্রমাণ পেশ করার সাথে সাথে মাঝে মাঝে অস্বীকারকারীদের অজ্ঞতার জন্য তাদেরকে ধমকানো ও ভয় দেখানো হয়েছে।
শিক্ষা দেবার পর্যায়ে নৈতিকতা ও সভ্যতা-সংস্কৃতির এমনসব বড় বড় মূলনীতির বর্ণনা করা হয়েছে যেগুলোর ওপর জীবনের সমগ্র ব্যবস্থাটি প্রতিষ্ঠিত করাই ছিল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াতের প্রধান লক্ষ্য। এটিকে ইসলামের ঘোষণাপত্র বলা যেতে পারে। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার এক বছর আগে আরববাসীদের সামনে এটি পেশ করা হয়েছিল। এতে সুস্পষ্টভাবে বলে দেয়া হয়েছে যে, এটি একটি নীল নক্শা এবং এ নীল নক্শার ভিত্তিতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের দেশের মানুষের এবং তারপর সমগ্র বিশ্ববাসীর জীবন গড়ে তুলতে চান।
এসব কথার সাথে সাথেই আবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হেদায়াত করা হয়েছে যে, সমস্যা ও সংকটের প্রবল ঘূর্ণাবর্তে মজবুতভাবে নিজের অবস্থানের ওপর টিকে থাকো এবং কুফরীর সাথে আপোষ করার চিন্তাই মাথায় এনো না। তাছাড়া মুসলমানরা যাদের মন কখনো কখনো কাফেরদের জুলুম, নিপীড়ন, কূটতর্ক এবং লাগাতার মিথ্যাচার ও মিথ্যা দোষারোপের ফলে বিরক্তিতে ভরে উঠতো, তাদেরকে ধৈর্য ও নিশ্চিন্ততার সাথে অবস্থার মোকাবিলা করতে থাকার এবং প্রচার ও সংশোধনের কাজে নিজেদের আবেগ-অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার উপদেশ দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আত্মসংশোধন ও আতসংযমের জন্য তাদেরকে নামাযের ব্যবস্থাপত্র দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, এটি এমন জিনিস যা তোমাদের সত্যের পথের মুজাহিদদের যেসব উন্নত গুণাবলীতে বিভূষিত হওয়া উচিত তেমনি ধরনের গুণাবলীতে ভূষিত করবে। হাদীস থেকে জানা যায়, এ প্রথম পাঁচ ওয়াক্ত নামায মুসলমানদের ওপর নিয়মিতভাবে ফরয করা হয়।
 সূত্রঃ তাফহীমুল কুর'আন

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৫

আল কুর'আনের কাব্যানুবাদঃ সুরা আর রাহমান

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৫

সূরা: আর-রাহমান
অর্থ: পরম করুণাময়, (মহান আল্লাহর ৯৯টি নামের অন্যতম একটি নাম)
সূরার ক্রম: ৫৫
পারা: ২৭
অবতীর্ণ: মদিনা
সর্বমোট আয়াত : ৭৮
রুকু: ৩

শুরু করি তা্ঁর নামে আল্লা যিনি
পরম করুণাময় দয়ালু তিনি।

রুকু-১

করুণাময় যিনি আল্লা মহান
শিক্ষা দিলেন তিনি এই সে কোরআন
সৃষ্টি করিয়া মানব দানিলেন প্রাণ
কথাও তাকে তিনি বলিতে শেখান।......................(৪)

সূর্য ও চাঁদ ঘোরে হিসাব মতো
তৃণলতা বৃক্ষ উভয় তাঁর অনুগত,
আকাশকে রেখেছেন সুউচ্চে দিয়া
মানের দন্ড আরো স্থাপন করিয়া।........................(৭)

পরিমাপে কম-বেশি করিবেনা বলে
ন্যায়ের ওজন দাও তোমরা সকলে,
ওজন পরিমাপে কম দিও না ফলে।.......................(৯)

তিনি তাঁর সৃষ্ট প্রাণীদের তরে
পৃথিবীকে দিলেন এমন স্থাপন করে,
খেজুরের গাছ সেথা ফলমূল নানা
আরো আছে খোসাঅলা শস্যের দানা;
সেথায় আছে আরো কুসুমের ঘ্রাণ
অস্বীকার করিবে রবের কোন অবদান?......(১৩)

মানুষ বানালেন তিনি উষর মৃত্তিকার
আগুনের শিখা হতে জ্বীনের আকার,
রবের যে নেয়ামত রহিয়াছে তাঁর
অস্বীকার করিবে রবের কোন অবদান?.......(১৬)

তিনিই প্রভু এক তাদের সকল
উদয়াচল দুটি আর দুটি অস্তাচল,
তোমাদের রবের দেয়া যত কল্যান
অস্বীকার করিবে রবের কোন অবদান?.......(১৮)

দুইটি সাগর দেন প্রবাহিত করে
পাশাপাশি চলে তারা পরস্পরে,
মেলে না একসাথে উভয়ের পানি
উভয়ের মাঝে দেয়া সীমারেখা টানি;
অতিক্রম করে না তারা কিছু পরিমাণ
অস্বীকার করিবে রবের কোন অবদান?.........(২১)

মুক্তা ও প্রবাল উভয় সাগরেরই দান
অস্বীকার করিবে রবের কোন অবদান?
তাঁরই দয়ায় চলে বৃহৎ জলযান
অস্বীকার করিবে রবের কোন অবদান?.........(২৫)

জমিনের যাহা কিছু হয়ে যাবে লয়
অনাদি তাঁহার কভু হবে না তো ক্ষয়,
প্রলয় সৃষ্টির মাঝে তিনি অম্লান
অস্বীকার করিবে রবের কোন অবদান?..........(২৮)

প্রার্থণা করে তাঁর জমিন আসমান
সর্বদা মগ্ন কাজে তিনি যে মহান
অস্বীকার করিবে রবের কোন অবদান?..........(৩০)

জ্বীন ও মানব ইহা করিও শ্রবণ
শীঘ্রই তোমাদের হিসাব করিব গ্রহণ,
তাহা হবে তোমাদের করিতে প্রদান
অস্বীকার করিবে রবের কোন অবদান?..........(৩২)

জ্বীন ও মানব যদি শক্তি ধরো
জমিন ও আসমান অতিক্রম করো,
সাহায্য ব্যতিরেকে কোন শক্তিমান
অস্বীকার করিবে রবের কোন অবদান?...........(৩৪)

যখন তোমাদের উভয় জাতির উপরে
দেয়া হবে ধোঁয়া রাশি নিক্ষেপ করে,
ঠেকাতে পারিবে না আরো অগ্নিরও বাণ
অস্বীকার করিবে রবের কোন অবদান?...........(৩৬)

যেই দিন ফেটে গিয়ে হবে খান খান
রক্তিম চামড়ার ন্যয় হবে আসমান,
অস্বীকার করিবে রবের কোন অবদান?...........(৩৮)

সেদিন জিজ্ঞাসা করা হবে না কারো
অপরাধ নিয়ে কোন জওয়াব আরো,
নিবে না কেহ আর জ্বীন ইনসান
অস্বীকার করিবে রবের কোন অবদান?............(৪০)

চেহারায় অপরাধী ছাপ যার রবে
দোজখের আগুনেতে নিক্ষেপ হবে,
চুল আর পা ধরে মারিয়া যে টান
অস্বীকার করিবে রবের কোন অবদান?.............(৪২)

এই সেই দোজখ যাহা অবিশ্বাস করিত
পাপীরা হাসিয়া তখন উড়াইয়া দিত,
ফুটন্ত পানিতে হবে তাহাদের স্নান
অস্বীকার করিবে রবের কোন অবদান?.............(৪৫)

====================(রুকু-২ সমাপ্ত)================
কৃতজ্ঞতয়াঃ ব্লগার মৈত্রি, সামহোয়্যারইনব্লগ

সুরা ফাতিহার কাব্যানুবাদ- কবি গোলাম মোস্তফা


কবিতাটি ছোটবেলায় বাংলা বইয়ে পড়েছিলাম। অনেক ভালো লাগত। তাই, অনেক খুঁজে আবার বের করলাম।
প্রার্থনা-
কবি গোলাম মোস্তফা
অনন্ত অসীম প্রেমময় তুমি
বিচার দিনের স্বামী।
যত গুণগান হে চির মহান
তোমারি অন্তর্যামী।
দ্যুলোক-ভূলোক সবারে ছাড়িয়া
তোমারি চরণে পড়ি লুটাইয়া
তোমারি সকাশে যাচি হে শকতি
তোমারি করুণাকামী।
সরল সঠিক পূণ্য পন্থা
মোদের দাও গো বলি,
চালাও সে-পথে যে-পথে তোমার
প্রিয়জন গেছে চলি।
যে-পথে তোমার চির-অভিশাপ
যে-পথে ভ্রান্তি, চির-পরিতাপ
হে মহাচালক,মোদের কখনও
করো না সে পথগামী।

বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০১৫

শব্দার্থে আল কুর'আনঃ সুরা ফাতিহা

বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০১৫
প্রথম অবতীর্ণ পূর্ণাংগ সুরা, সুরা ফাতিহার শব্দার্থে অনুবাদ দেওয়া হলো। শব্দার্থের নিচে অনুবাদ দেওয়া হলো। 
একেবারে ডানপাশের কলামে অর্থ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আরবিতে অনেক সময় দুটি শব্দ একত্রে যুক্ত হয়ে যায়। এক্ষেত্রে যারা নতুন আরবি শিখছেন, তাদের জন্যে শব্দ আলাদা করে অর্থ বুঝতে অসুবিধা হয়। তাই, এসব ক্ষেত্রে আলাদা শব্দকে আলাদা রং-এ দেখানো হল। 

শব্দ অর্থ বৈশিষ্ট্য

নাম দিয়ে, নামে P: Preposition. এর অর্থ হলো দ্বারা, প্রতি
N: বিশেষ্য। অর্থঃ নাম

আল্লাহ Proper Noun

পরম করুণাময় Adjective (বিশেষণ)

অতি দয়ালু Adjective (বিশেষণ)

সমস্ত প্রশংসা N: বিশেষ্য। আলিফ-লাম দ্বারা সমগ্রতা বোঝায়। এছাড়া এটি আরবিতে ইংরেজি the এর মত আর্টিকেল হিসেবে বসে নির্দিষ্ট করে।

আল্লাহর জন্যে P: Preposition। অর্থঃ জন্যে
PN: Proper Noun। অর্থঃ আল্লাহ

রব, প্রতিপালক বিশেষ্য

জগতসমূহ, সৃষ্টিজাহান বিশেষ্য
পরম করুণাময় বিশেষণ
অতি দয়ালু বিশেষণ
মালিক, কর্তা বিশেষ্য

দিন, দিবস বিশেষ্য
বিচার, প্রতিফল বিশেষ্য
শুধু তোমারই সর্বনাম
আমরা ইবাদত করি উত্তম পুরুষ বহুবচনের ক্রিয়া
আর শুধু তোমারই (কাছে) CONJ: Conjunction। অর্থঃ এবং
PRON: Pronoun (সর্বনাম)।
আমরা সাহায্য চাই উত্তম পুরুষ বহুবচনের ক্রিয়া
আমাদেরকে চালিত করো, পথ দেখাও V: অনুরোধ/আদেশ সূচক একবচনের সিগাহ (রূপ)। আরবিতে এ ধরণের রূপকে বলে আমরের সিগাহ। একাধিক ব্যক্তিকে আদেশ করা হলে রূপ পরিবর্তিত হয়।
PRON: সর্বনাম। অর্থঃ আমাদেরকে
(এমন) পথ বিশেষ্য
সোজা, সঠিক, সরল বিশেষণ
পথ বিশেষ্য 
যাদের, যারা REL: relative Pronoun। অর্থঃ যারা, যাদের
তুমি অনুগ্রহ করেছো মধ্যম পুরুষের অতীত কালের সিগাহ
তাদের উপর P: অর্থঃ উপরে
PRON: অর্থঃ তারা, তাদের
নয় বিশেষ্য
অভিশপ্তরা passive participle। বাংলায় এর সঠিক অর্থ হচ্ছে ‘যাদের উপর অভিশাপ বর্ষিত হয়েছে’।
তাদের উপর P: অর্থঃ উপরে
PRON: অর্থঃ তারা, তাদের
এবং নয় CONJ: অর্থঃ এবং
NEG: নাবোধক শব্দ। অর্থঃ না, নয়।
পথভ্রষ্ট বিশেষ্য

সম্পূর্ণ অনুবাদ দেখুন এখানে 

দৈনন্দিন মাসনুন দুয়া

১। ঘুমাতে যাবার সময়ের দোয়া 
অর্থঃ হে আল্লাহ, তোমার নামেই আমি মারা যাই এবং জীবিত হই। 
২। ঘুম থেকে উঠার দোয়া 

অর্থঃ সমস্ত প্রশংসা সে আল্লাহর যিনি আমাকে মৃত্যুর পর আবার জীবিত করেছেন। তাঁর দিকেই আমাদের ফিরে যেতে হবে। 
৩। খাবার শুরু করার আগে দোয়া 

অর্থঃ আল্লাহর নামে তাঁর বরকতের আশায় শুরু করছি 
৪। খাবার শেষে দোয়া 

অর্থঃ সমস্ত প্রসশংসা সেই আল্লাহর যিনি আমাকে খাইয়েছেন, পান করিয়েছেন এবং মুসলমান বানিয়েছেন। 
৫। খাবার শুরুতে দোয়া পড়তে ভুলে গেলে 

অর্থঃ আল্লাহর নামেই শুরু ও শেষ করছি। 
৬। পান করার আগে দোয়া 

অর্থঃ আল্লাহর নামে (পান করছি) 
৭। পান করার পর দোয়া 

অর্থঃ সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যে 
৮। পায়খানায় প্রবেশের দোয়া 

অর্থঃ হে আল্লাহ, আমি নারী ও পুরুষ শয়তান থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। 
৯। পায়খানা থেকে বের হবার পর দোয়া 

অর্থঃ হে আল্লাহ, আমি তোমার ক্ষমা প্রার্থনা করছি। 
অথবা
অর্থঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যে, যিনি আমার কষ্ট দূর করেছেন এবং আমাকে স্বস্তি দিয়েছেন। 
১০। বাড়ি থেকে বের হবার দোয়া 


অর্থঃ আল্লাহর নামে রওয়ানা দিচ্ছি, আল্লাহর উপর ভরসা করছি। আল্লাহ ছাড়া কোন ক্ষমতা ও শক্তি নেই। 

 ১১। বাড়িতে প্রবেশের দুয়া
অর্থঃ হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে ভালোভাবে প্রবেশ করার ও ভালোভাবে বের হবার প্রার্থনা করছি। আল্লাহর নামেই আমরা প্রবেশ করি ও বের হই। আমরা আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর উপরই ভরসা করি।
১২। মসজিদে প্রবেশের দোয়া

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমার জন্যে তোমার রহমতের দরজা খুলে দাও 
 ১৩। মসজিদ থেকে বের হবার দোয়া
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি 

 ১৪। অযুর শুরুতে দোয়াঃ উল্লেখ্য, হাদিসে কোন দোয়া নির্দিষ্ট করা হয়নি, তবে আল্লাহর নামে শুরু করতে তাকিদ দেওয়া হয়েছে।

 অর্থঃ পরম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি
১৫। অযুর সময় দোয়া
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমার গুনাহ মাফ করে দাও, আমার কবর প্রশস্ত করে দাও এবং আমার উপার্জনে বরকত দিয়ে দাও। 
১৫। অযু শেষে দোয়া। আকাশের দিকে তাকিয়ে পড়তে হবে। মিশকাত শরিফে বলা হয়েছে, এই দোয়া পড়লে জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে যাবে এবং যে কোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ করা যাবে। 
অর্থঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই, তিনি এক ও একক, তাঁর কোন অংশীদার নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাঃ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। 
অথবা পড়তে হবে এই দোয়া। 

অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করো। 
অথবা 
 ১৬। কাপড় পরার দোয়া

অর্থঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যে, যিনি আমাকে কাপড় পরিয়েছেন আমার কোন প্রচেষ্টা বা শক্তি ছাড়াই। 
১৭। ইফতারের শুরুতে দোয়া 
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্যে সিয়াম পালন করেছি আর তোমার দেওয়া রিযক থেকেই ইফতার করেছি। 
অথবা নিচের দোয়া 
অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার রহমত সবকিছুকে বেষ্টন করে আছে। তার উসিলায় আমাকে মাফ করে দাও। 
১৮। ইফতারের পরের দোয়া
অর্থঃ পিপাসা চলে গেছে, ধমনীসমূহ সিক্ত হয়েছে এবং আলাহর ইচ্ছায় পুরস্কার নির্ধারিত হয়েছে। 
চলবে......... ইনশা-আল্লাহ 
সূত্রঃ 
[১] মাসনুন দুয়ার বই। 
[২] Search Truth